অবশেষে বাংলাতেও চালু পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প! ২০২৭-এ ব্রিগেডে ৫ লক্ষ শিল্পীকে নিয়ে মেগা সমাবেশের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

বিশ্বকর্মা দিবসের পুণ্যলগ্নে বাংলার কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোগীদের জন্য এল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক বড় সুখবর। বৃহস্পতিবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনের মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে শুরু হল এই বহুকাঙ্ক্ষিত কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী জিতন রাম মাঝি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় এই প্রথম সরকারিভাবে বিশ্বকর্মা দিবস পালিত হলো বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণ না করার মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত করার অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ২০২৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৫ লক্ষের বেশি সুবিধাভোগীকে নিয়ে এক বিশাল জনসমাবেশ করা হবে। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের মধ্যে এক নম্বর করে তোলার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের কড়া নজর ও বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপ: প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতি রুখতে ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। অতীতে মানরেগা বা অন্যান্য প্রকল্পে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, এই বিশ্বকর্মা যোজনার ক্ষমতা পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে না রেখে সরাসরি পঞ্চায়েতের সচিবদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প চালুর ঠিক পরেই ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৩ হাজারের বেশি বিশ্বকর্মা আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি, কারিগরদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আরও বেশি করে প্রশিক্ষক পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বাছাই করা উপভোক্তাদের হাতে পিএম বিশ্বকর্মা শংসাপত্র, দক্ষতা প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট, ঋণের শংসাপত্র এবং প্রয়োজনীয় টুলকিট তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রির বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা তাঁদের তৈরি সামগ্রীকে বৃহত্তর জাতীয় বাজারে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। দেশজুড়ে গত তিন বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার নথিভুক্তকরণ ও ২৪.৫০ লক্ষ সুবিধাভোগীকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর, বাংলার এই পদক্ষেপে রাজ্যের কুটির শিল্প ও কারিগর সমাজে এক নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।