বোলিংয়ে আগুন জ্বালিয়ে সমালোচকদের মুখের জবাব! ভারতের ম্যাচ জেতানো হিরো কে এই অলরাউন্ডার?

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটেছেন ভারতের তরুণ অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে চোট সারিয়ে ফিরে দুই ওভারে ৩০ রান খরচ করে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ভারতীয় দলের ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ম্যাচে মাত্র ২৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নিজের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারের সেরা বোলিং ফিগারটি গড়েছেন।

প্রতি ওভারের প্রথম বলেই সাফল্য

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল নীতীশের অনন্য এক কৃতিত্ব। তিনি তাঁর স্পেলের তিন ওভারের প্রতিটির প্রথম বলেই একটি করে উইকেট শিকার করে আফগান ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ভারতীয় অধিনায়ক যখন নবম ওভারে তাঁর হাতে বল তুলে দেন, তখন থেকেই শুরু হয় উইকেটের পতন।

নিজের কোটার প্রথম ওভারের প্রথম বলেই তিনি সাজঘরে পাঠান থিতু হওয়া আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানকে। এরপর নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে অভিজ্ঞ গুলবাদিন নাইবকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। এখানেই শেষ নয়, নিজের স্পেলের শেষ তথা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলেই তিনি আউট করেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা রশিদ খানকে, যিনি তখন ২৮ রান করে ভালো ছন্দে ব্যাট করছিলেন। নীতীশের এই তাক লাগানো বোলিংয়ের সুবাদেই ভারতীয় দল আফগানিস্তানকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৯ রানে আটকে রাখতে সক্ষম হয়।

সমালোচকদের যোগ্য জবাব

দিল্লির ফ্ল্যাট পিচে যেখানে বোলাররা রান আটকানোর জন্য সংগ্রাম করছিলেন, সেখানে নীতীশ শুধু আঁটসাঁট বোলিংই করেননি, বরং দলের বিপদের সময় সঠিক ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছেন। এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে, চোটের ধাক্কা কাটিয়ে তিনি মানসিকভাবে কতটা শক্তিশালী এবং হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতিতে টিম ইন্ডিয়ার পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি কতটা দ্রুত পরিপক্ক হয়ে উঠছেন।