স্মার্টফোনপ্রেমীদের জন্য দুর্দান্ত সুখবর! জিএসটি কমলেই কি জলের দরে মিলবে আইফোন-রেডমি?

স্মার্টফোনের লাগাতার দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। দেশি হোক কিংবা বিদেশি ব্র্যান্ড—প্রতিটি সংস্থাই সাম্প্রতিক সময়ে ফোনের দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে কিছু উন্নত মডেলের স্মার্টফোন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে। মূলত মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধির ফলেই বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে স্মার্টফোন রাখতে এবং দাম হাতের নাগালে আনতে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কর ছাড়ের জোরালো আবেদন জানাল ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (ICEA)।

বিলাসবহুল নয়, স্মার্টফোনকে হোক অত্যাবশ্যকীয় পণ্য

সংগঠনের তরফে সরকারের কাছে স্পষ্ট আর্জি জানানো হয়েছে যে, স্মার্টফোনকে যেন আর কোনোভাবেই ‘লাক্সারি’ বা বিলাসবহুল সামগ্রী হিসেবে গণ্য না করা হয়। পরিবর্তে একে একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে স্মার্টফোনের ওপর ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি (GST) চাপানো রয়েছে। ICEA আবেদন করেছে যে, এই করের বোঝা কমিয়ে যেন মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়। অ্যাপেল (Apple), শাওমি (Xiaomi), অপ্পো (Oppo), ভিভো (Vivo), লাভা (Lava)-সহ দেশের বিভিন্ন প্রধান সংস্থাকে নিয়েই এই সংগঠনটি গঠিত হয়েছে। তাদের জোরালো দাবি, ভারতে বর্তমান করের হার অত্যন্ত বেশি, অথচ আজকের দিনে স্মার্টফোন প্রতিটি মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বর্তমানে দেশের ৯০ কোটিরও বেশি মানুষ যোগাযোগের মাধ্যম ও দৈনন্দিন কাজের জন্য স্মার্টফোনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করেন।

ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার পথে অন্তরায় চড়া দাম

এই বিষয়ে ICEA-র চেয়ারম্যান পঙ্কজ মহিন্দ্রা উল্লেখ করেছেন যে, ডিজিটাল পরিকাঠামোর মেরুদণ্ড হলো স্মার্টফোন, তাই একে কোনোভাবেই বিলাসিতার বস্তু বলা চলে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যে ডিভাইসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ‘ডিজটাল ইন্ডিয়া’ কার্যক্রমে অংশ নেবেন, সেটিই যদি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, তবে দেশ কখনো কাঙ্ক্ষিত ডিজিটাল অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না। জিএসটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হলে ফোনগুলোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, বাজারে চাহিদা বাড়বে এবং সর্বজনীন ডিজিটাল অ্যাক্সেসের পথে ভারতের অগ্রযাত্রাকে দ্রুততর করবে।