যুদ্ধক্ষেত্রে আসছে বিরাট বদল! এআই ও ড্রোনে মুড়ে শত্রুদের ধুলিস্বাত করতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা

বদলু যুদ্ধের কৌশল এবং চিন ও পাকিস্তানের তরফ থেকে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় নিজেদের যুদ্ধক্ষমতাকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আধুনিক করে তুলছে ভারতীয় সেনা। আধুনিক সামরিক কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় বা স্বশাসিত সিস্টেম, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, হাইপারসনিক এবং ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন্স বা নির্দেশিত শক্তি অস্ত্রকে। আগামী দুই দশকে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলি যুদ্ধের ময়দানে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলা এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরের তাগিদ দ্বিগুণ হয়েছে। এই অভিযানের পরই সামরিক সক্ষমতার ফাঁকফোকরগুলি চিহ্নিত করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ড্রোনিং সিস্টেম, লোটারিং মিউনিশিয়ন্স এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পরিকাঠামো মজবুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংস্থা, বিভিন্ন স্টার্টআপ এবং স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই হাই-টেক অস্ত্রশস্ত্র দ্রুত অর্জনের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সেনায় নতুন নতুন ফর্মেশন বা বিন্যাস তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমব্যাট ক্ষমতা বাড়াতে স্বাধীন ব্রিগেডগুলিকে ঢেলে সাজিয়ে ‘রুদ্র ব্রিগেড’ গঠন, হাই-টেম্পো ও হাইব্রিড যুদ্ধের জন্য ১৫টি ‘ভৈরব কমান্ডো ব্যাটালিয়ন’ এবং মিডিয়াম আর্টিলারি রেজিলিয়েন্সকে উন্নত করতে তিনটি ‘শক্তি-বাণ রেজিমেন্ট’। পাশাপাশি প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে ‘অশনি ড্রোন প্লাটুনা’ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নজরদারি ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

আত্মনির্ভর ভারতের পথে হেঁটে গত তিন অর্থবর্ষে প্রায় ১.০০ লক্ষ টাকার ১২২টি ক্যাপিটাল কন্ট্রাক্টের মধ্যে ১২০টিই দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে করা হয়েছে। গোলবারুদের ক্ষেত্রেও প্রায় ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে দেশীয়করণের সফল রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া পোখরাণে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘নাগ এমকে-২’ অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইলের সফল ফিল্ড ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে এবং সেনার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত ৮১৯টি উন্নত ড্রোন তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হাই-টেক যুদ্ধের মোকাবিলা করতে এক সম্পূর্ণ আধুনিক ও ডিজিটাল বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ভারতীয় সেনা।