সোনার বাজারে বড় ধস! অপরিশোধিত তেলের কোপে দেড় লাখের নিচে নামছে বিক্রি? চরম দুঃসংবাদ নাকি সেরা সুযোগ?

নিউইয়র্ক থেকে মুম্বাই—বিশ্বজুড়ে মূল্যবানের ধাতুর বাজারে তীব্র দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং মুদ্রাস্ফীতির জেরে সোনা ও রুপার ওপর প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে ধাক্কা খাচ্ছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় bullion মার্কেট।

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের ৫টি মূল চিত্র:

  • দেশীয় ফিউচার্স মার্কেট: ভারতের বাজারে এক ধাক্কায় সোনার দাম ২,৩০০ টাকারও বেশি কমেছে।

  • ধস রুপার বাজারে: মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপার দর কেজিতে ৫,০০০ টাকার বেশি পেছাল।

  • বিশ্ববাজারে ধস: আন্তর্জাতিক কমোডিটি মার্কেটে সোনা ও রুপার দাম ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

  • ফেডের কড়া নজর: বিশ্বজুড়ে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধিই এই দরপতনের মূল অনুঘটক।

  • আগামী দিনের আশঙ্কা: ভারতীয় ফিউচার্স মার্কেটে সোনার দাম শিগগিরই ১.৫০ লাখ টাকার মনস্তাত্ত্বিক স্তরের নিচে নেমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে ঘোরাফেরা করছে। তেলের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির সংকটকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক—ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর কঠোর বার্তা দিচ্ছে।

আমেরিকায় সোনার দাম আউন্স প্রতি ৪,৩০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতে। বর্তমানে ভারতের ফিউচার্স মার্কেটে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার কাছে অবস্থান করছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, সুদের হার বাড়লে সোনার দর আরও নিম্নমুখী হতে পারে।

অন্যদিকে, শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা বজায় থাকা সত্ত্বেও রুপার দর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন ফিউচার্স মার্কেটে রুপার দর আউন্স প্রতি ৬৩ ডলারে ঠেকেছে। ভারতের MCX-এ রুপার দাম প্রতি কেজি ২.৩০ লক্ষ টাকার নিচে নেমে গেছে, যা সর্বকালের রেকর্ড উচ্চতা থেকে প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি পতন নির্দেশ করে।

আন্তর্জাতিক বাজারের চালচিত্র দেশীয় বাজারে সোনা ও রুপার দর নির্ধারণ করে নিউইয়র্কের কমেক্স (COMEX) বাজার। নিউইয়র্ক ফিউচার্স মার্কেটে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৮২ ডলার কমে ৪,৩২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। স্পট মার্কেটে সোনার দর প্রতি আউন্স ৪,২৯৬.৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রুপার ক্ষেত্রেও একই ছবি। কমেক্স ফিউচার্সে রুপা প্রায় ৩ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৬৩.৩৭ ডলারে ট্রেড করছে। যদিও গত এক বছরের পারফরম্যান্সের বিচারে সোনা এখনো প্রায় ১৬.৬ শতাংশ লাভে রয়েছে, তবে অতি সম্প্রতি সোনার দর আউন্স প্রতি ৪,৬০০ ডলার ছুঁয়ে যাওয়ার কারণে বিনোয়োগকারীরা বর্তমানে মুনাফা তুলে নেওয়া (Profit Booking) পছন্দ করছেন।

ভারতীয় বাজারে সোনা ও রুপার বর্তমান দর মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনেই সোনা ও রুপা বড় পতনের মুখে পড়ে।

  • সোনার লেনদেন: সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,৫০,৮৯৬ টাকায় খোলে এবং দিনের মাঝে ২,৩১৩ টাকা কমে ১,৫০,৪৭১ টাকার নিচে চলে যায়। দিনের শেষে সামান্য রিকভারি নিয়ে দর দাঁড়িয়েছে ১,৫০,৫৯৯ টাকা। (উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে দর ছিল ১,৫২,৭৮৪ টাকা)।

  • রুপার লেনদেন: রুপার ক্ষেত্রে পতনের মাত্রা আরও মারাত্মক। MCX-এ কেজি প্রতি রুপার দাম ২.১৫% (প্রায় ৫,০৫৫ টাকা) কমে ২,২৯,৯১৯ টাকায় নেমে আসে। লেনদেনের শেষের দিকে এটি ২,৩০,৬৭১ টাকার কাছাকাছি থিতু হয়। (গত সপ্তাহে রুপার বন্ধের দাম ছিল ২,৩৪,৯৭৪ টাকা/কেজি)।

বিশ্বজুড়ে সুদের হার বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে বাজার কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।