উৎসবের মরসুমে মধ্যবিত্তের বড় স্বস্তি! আকাশছোঁয়া দর হারিয়ে জলের দরে বিকোচ্ছে চিনি?

গণেশ চতুর্থী থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা—উৎসবের মরসুম শুরুর মুখেই বড়সড় স্বস্তির খবর দেশের মধ্যবিত্তের জন্য। উৎসবের মরসুমে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় পণ্যের চাহিদা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও টানা চার দিন ধরে দেশজুড়ে চিনির গড় খুচরা দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকার নিচেই আটকে রয়েছে। গত ২১শে আগস্ট কেন্দ্র সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি দাম নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এই পতন দেখা দিয়েছে।

উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সারা দেশে চিনির গড় খুচরা মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৫৯.৫৭ টাকা। উৎসবের কারণে কিছু অঞ্চলে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামান্য দাম বাড়লেও সার্বিকভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সফলতা এসেছে।

চিনির বাজারের মূল ৫টি হাইলাইটস:

  • কড়া পদক্ষেপের সাফল্য: গত ২১শে আগস্ট আমদানির ছাড়পত্র ও মজুতসীমা নির্দিষ্ট করার পর থেকেই চিনির বাজারে লাগাম টানা সম্ভব হয়েছে।

  • উৎসবের চাহিদা: পার্বণের দরুন দক্ষিণ ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে খুচরা দামের ওপর সামান্য চাপ দেখা গেছে।

  • উৎপাদনকারী রাজ্যের ছবি: মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের মতো বড় উৎপাদক রাজ্যে দাম কমেছে।

  • উৎপাদন হ্রাস: ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে চিনির মোট উৎপাদন ৩৪.৩ মিলিয়ন টন থেকে কমে ৩০.৬ মিলিয়ন টন হওয়ার সম্ভাবনা।

  • পর্যাপ্ত সম্ভার: সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, উৎসবের মরসুমে ঘরোয়া চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে।

কোন রাজ্যে কেমন দাম? উত্তর ও পশ্চিম ভারতে স্বস্তি, দক্ষিণ ভারতে সামান্য বৃদ্ধি

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সারা দেশে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য রেকর্ড করা হয়েছে প্রতি কেজি ৮৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪০ টাকা।

রাজ্য / অঞ্চল২১শে আগস্টের দামবর্তমান দাম (কেজি প্রতি)বাজারের অবস্থা
মহারাষ্ট্র৫৯.০০ টাকা৫৮.২২ টাকাকমানোর ধারা অব্যাহত
উত্তরপ্রদেশ৫৯.৬৪ টাকা৫৭.৮৮ টাকাবেশ কিছুটা সস্তা
মধ্যপ্রদেশ৬২.৩৬ টাকা৫৬.৫৭ টাকাএক ধাক্কায় ব্যাপক পতন
পশ্চিমবঙ্গ৬০.৯৫ টাকা৬০.৪৩ টাকাসামান্য হ্রাস
অন্ধ্রপ্রদেশ৪৯.৫৮ টাকা৫৫.৫৬ টাকাচাহিদার কারণে ঊর্ধ্বমুখী
কেরালা৫৬.৭৫ টাকা৫৭.৮০ টাকাসামান্য বৃদ্ধি

সরকারের কড়া পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত মজুতের আশ্বাস

চিনির কলগুলো কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াতে পারে—এই আশঙ্কায় গত ২১শে আগস্ট কেন্দ্র সরকার চিনি আমদানির অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ী ও ডিলারদের জন্য মজুতের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেয়।

যদিও আবহাওয়ার কারণে ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে দেশের মোট চিনি উৎপাদন ৩৪.৩ মিলিয়ন টন থেকে কমে ৩০.৬ মিলিয়ন টন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে কেন্দ্রের হাতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশের বার্ষিক ঘরোয়া চাহিদা প্রায় ২৮ থেকে ২৮.৫ মিলিয়ন টন, ফলে উৎসবের মরসুমে চিনি নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেই নিশ্চিত করেছে মন্ত্রক।