পুরোনো ঐতিহ্য ছেড়ে এবার ট্রেন্ডি আউটফিট! জেন জি-কে আকৃষ্ট করতে খাদি আনছে বিরাট পরিবর্তন

সাধারণ প্রথাগত ও বয়স্কদের পোশাকের তকমা ঝেড়ে ফেলে এবার পুরোদস্তুর জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের ট্রেন্ডি ফ্যাশনে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত ঐতিহ্যবাহী খাদি। দেশের তরুণ প্রজন্মের রুচি ও আধুনিক ফ্যাশন চাহিদা বুঝতে ‘নো ইয়োর খাদি’ (Know Your Khadi) শীর্ষক এক বিশাল সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করতে চলেছে খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশন (KVIC)। খাদি গ্রামোদ্যোগের সিইও মনোজ গোয়েল টিভি৯ ভারতবর্ষকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই মেগা পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশব্যাপী পালিত হবে ‘খাদি সেবা সংকল্প মহোৎসব’।

তরুণদের টানতে খাদির ৫টি মাস্টারপ্ল্যান:

  • ক্যাম্পাস কানেক্ট: বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের পছন্দের ফিডব্যাক নেওয়া।

  • খাদি ফ্যাশন ওয়াক: ক্যাম্পাসে তরুণদের নিয়ে বিশেষ র‍্যাম্প শোর আয়োজন।

  • সোশ্যাল মিডিয়া চ্যালেঞ্জ: ‘#7Days7KhadiLooks’ এবং ‘খাদি ক্রিয়েটর চ্যালেঞ্জ’-এর মতো অনলাইন প্রতিযোগিতা।

  • ডিজিটাল রিচ: সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রিয়েটরদের যুক্ত করে আধুনিক আউটফিটের প্রচার।

  • চরখা এক্সপেরিয়েন্স: শিক্ষার্থীদের সরাসরি চরকায় সুতা কাটার অভিজ্ঞতার সুযোগ।

ক্যাম্পাসে জমবে ফ্যাশন ওয়াক ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রাই

তরুণদের পছন্দের সঙ্গে মানানসই ঢিলেঢালা বা ফিউশন আউটফিট তৈরিই এখন কেভিআইসি-র প্রধান লক্ষ্য। কেবল সুতি বা সাধারণ কুর্তাতেই আটকে না থেকে, নতুন স্টাইলের জ্যাকেট, ক্রপ টপ ও ফিউশন ড্রেস তৈরির কাজ চলছে।

উদ্যোগের নামকীভাবে কাজ করবে?উদ্দেশ্য
ক্যাম্পাস কানেক্ট (Campus Connect)কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশেষ ড্রাইভ।জেন জি কী ধরণের খাদি পোশাক চায় তা জানা।
খাদি ফ্যাশন ওয়াক (Campus Edition)ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিশেষ ফ্যাশন শো।টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন হিসেবে তুলে ধরা।
অনлайн চ্যালেঞ্জইনস্টাগ্রাম ও রিলসে #7Days7KhadiLooks ট্রেন্ড।তরুণদের প্রতিদিনের ফ্যাশনে খাদি অন্তর্ভুক্ত করা।

কারিগরি গল্প পৌঁছাবে ঘরে ঘরে

মনোজ গোয়েল জানান, এই উৎসবে তরুণরা কেবল কেনাকাটাই করবেন না, বরং যে স্থানীয় কারিগর ও তাঁতিরা দিনরাত পরিশ্রম করে খাদি তৈরি করেন, তাঁদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরা হবে। ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের এই সূক্ষ্ম ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা জাগানোই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।