UP-তে ৩টি খুন ঘিরে শুরু রক্তক্ষয়ী ‘জাতিকালীন’ রাজনীতি! ভোটের আগে ব্যাকফুটে বিজেপি?

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের এখনো বাকি কিছুটা সময়, কিন্তু তার আগেই একটার পর একটা মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্বাঞ্চলের রাজনীতি। সম্প্রতি গোন্ডায় বাসনপত্র ব্যবসায়ী বিনোদ সাহনির নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। এর সাথে অযোধ্যায় রামলগন মৌর্য এবং প্রতাপগড়ে সৌরভ বিশ্বকর্মার হত্যাকাণ্ড যুক্ত হয়ে গোটা বিষয়টিকে সরাসরি ‘ওবিসি (OBC) বনাম উচ্চবর্ণের’ জাতিগত সংঘাতের আখ্যানে রূপ দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিবাদ থেকে রক্তক্ষয়ী পরিণতি
গোন্ডার ব্যবসায়ী বিনোদ সাহনির হত্যাকাণ্ড স্রেফ কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে পুরোনো বিরোধ ও সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্ক। বিনোদের পরিবার আগেই হত্যার হুমকির অভিযোগ জানিয়েছিল। হত্যার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে নিষাদ সম্প্রদায়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ইতোমধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে পুলিশ।
বিষয়টির সংবেদনশীলতা বুঝতে পেরে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছেন যোগী সরকারের মন্ত্রী তথা নিষাদ পার্টির প্রধান সঞ্জয় নিষাদ। বিনোদ সাহনি হত্যা মামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের ঘরবাড়িতে ‘বুলডোজার’ চালানোর দাবি নিয়ে তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দরবারে বৈঠক করতে চলেছেন।
অযোধ্যা থেকে প্রতাপগড়: পর পর হত্যাকাণ্ডে সিঁদুরে মেঘ
ঘটনার সূত্রপাত শুধু গোন্ডায় সীমাবদ্ধ নেই:
অযোধ্যা: গত ২৫শে আগস্ট জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় রামলগন মৌর্যকে। এই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন তাঁর বৃদ্ধা মা পার্বতী দেবীও।
প্রতাপগড়: প্রায় একই সময়ে বিশ্বকর্মা সম্প্রদায়ের যুব নেতা সৌরভ বিশ্বকর্মার রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়।
তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রেই নিহতরা অনগ্রসর (OBC) সম্প্রদায়ের এবং অভিযুক্তরা উচ্চবর্ণের হওয়ায় বিরোধী দলগুলো একযোগে সুর চড়িয়েছে।
অখিলেশের ‘পিডিএ’ চাল ও বিজেপির চিন্তা
সমাজবাদী পার্টির (SP) সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব ইতিমধ্যেই নিহত বিনোদ সাহনির পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন। কংগ্রেস ও এআইএমআইএম (AIMIM)-এর মতো দলগুলোও নিহতের স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনাটিকে ওবিসি সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচার হিসেবে তুলে ধরছে। অখিলেশ যাদবের ‘পিডিএ’ (পিছড়া, দলিত, আল্পসংখ্যক) রাজনীতিকে শক্তিশালী করতেই এই কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতি শাসকদল বিজেপির জন্য যথেষ্ট চিন্তার। কারণ, উত্তর প্রদেশে বিজেপির ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে অ-যাদব ওবিসি (মৌর্য, শাক্য, কুর্মি, নিষাদ ও বিশ্বকর্মা সম্প্রদায়)। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর ২০২৭-এর আগে যদি এই অনগ্রসর শ্রেণীর মনে অসন্তোষ জন্ম নেয়, তবে তা বিজেপির ঝুলিতে বড় আঘাত হানতে পারে।
পাশাপাশি চাপ বাড়ছে বিজেপির শরিক দল নিষাদ পার্টি, আপনা দল (এস) এবং সুভাষপার ওপরও। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে কীভাবে এই তৈরি হওয়া ‘জাতিগত’ আখ্যানের মোকাবিলা করে যোগী সরকার।