কার্গিল যুদ্ধের সেনানীকে লোহার রড দিয়ে নারকীয় হামলা! পার্কিংয়ের সামান্য বচসায় রক্তে ভাসল সাইবার সিটি

যে হাত একদিন ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে শত্রুসেনার হাত থেকে দেশের আকাশসীমা রক্ষা করেছিল, সেই হাতই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সামান্য পার্কিংয়ের বচসায়! দেশের বীর সেনানীকে নিজ শহরেই লোহার রড দিয়ে নৃসংভাবে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে হরিয়ানার অভিজাত এলাকা গুরুগ্রামে।

আক্রান্ত অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিক গ্রুপ ক্যাপ্টেন অমিতকুমার গুপ্ত ১৯৯৯-এর কার্গিল যুদ্ধের ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এর অন্যতম বীর যোদ্ধা ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৮-র ‘এম৩এম ম্যাগনাম বিজনেস পার্ক’-এর একটি রেস্তরাঁর সামনে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে গিয়ে এই হাড়হিম করা হিংসার শিকার হন তিনি।

পার্কিংয়ের জায়গায় লোহার রডের হামলা

পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ পরিবারের সদস্যদের রেস্তরাঁর সামনে নামিয়ে দিয়ে নিজের গাড়ি পার্ক করার জায়গা খুঁজছিলেন অমিতবাবু। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত পার্কিং কর্মীরা তাঁকে গাড়ি রাখতে বাধা দেয়। এ নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি হতেই আচমকা তা হিংসাত্মক রূপ নেয়।

অভিযোগ, এক পার্কিং কর্মী হঠাতই উত্তেজিত হয়ে প্রাক্তন সেনাকর্তার গাড়ির কাচে সজোরে ঘুষি মারতে থাকে। অমিতবাবু গাড়ি থেকে নেমে প্রতিবাদ করতে গেলে লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় সরাসরি আঘাত করা হয়। রডের প্রহারে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং বাঁ হাত ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রবীণ সেনা আধিকারিককে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ঘটনার পর রোববার সেক্টর ৬৫ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন অমিতকুমার গুপ্ত। গুরুগ্রাম পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হামলার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত পার্কিং কর্মীকে শনাক্ত করা গেলেও, এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অন্যদিকে, একই দিনে গুরুগ্রামের রাজপথে এক মহিলা বাইকারকে তাড়া করে মদ্যপ গাড়িচালকের ধাক্কা মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শহরজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এক দিকে দেশের প্রবীণ কার্গিলযোদ্ধার সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়া, অন্যদিকে প্রকাশ্যে রাজপথে মহিলাদের নিরাপত্তার অভাব— দুই ঘটনায় গুরুগ্রাম পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কঙ্কালসার রূপটি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।