বাংলার ঘরে ঘরে ডেঙ্গির ত্রাস! লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, কোন মারাত্মক ভুল করছেন আপনি?

রাজ্যজুড়ে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গি। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ—দ্রিকে দিকে বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরে ঘরে এখন জ্বরের রোগীর খোঁজ মিলছে। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই পাঁচ হাজারের গণ্ডি পার করে ফেলেছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদিয়া এবং বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্ষার খামখেয়ালি আবহাওয়া এবং জল জমে থাকার প্রবণতাই এই রোগ বিস্তারের প্রধান কারণ। ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রবীণ শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষের মতে, ডেঙ্গির আসল বিপদ লুকিয়ে থাকে জ্বর কমে যাওয়ার পরে। সাধারণত প্রথমবার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে, কিন্তু দ্বিতীয়বার বা জ্বর নেমে যাওয়ার পরবর্তী সময়ে রোগীর শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর কমার পর রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ, পেটে তীব্র ব্যথা কিংবা শারীরিক দুর্বলতার মতো লক্ষণগুলি অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। এগুলি ‘ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম’-এর লক্ষণ হতে পারে, যা রোগীর জীবন সংশয় ঘটাতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর। প্রতিটি সংবেদনশীল এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে এবং সচেতনতামূলক প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পৌরনিগমসহ বিভিন্ন জেলার পৌরসভাগুলিও হটস্পট চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, ডেঙ্গি থেকে বাঁচতে হলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া সবচেয়ে জরুরি। ঘরের আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা এবং সামান্য জ্বর এলেই রক্ত পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলেই এই মারাত্মক রোগকে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব