পাঁচ বছর পর কবর খুঁড়ে বেরোল কঙ্কাল! সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্যকর মোড়!

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি ফের একবার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে নানা অভিযোগে বারবার শিরোনামে উঠে আসা এই সন্দেশখালিতেই এবার এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে খুন হওয়া এক বিজেপি কর্মীর কঙ্কালসার দেহাবশেষ দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হলো। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই বিজেপি কর্মীর নাম আস্তিক চন্দ্র দাস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা শাহজাহান শেখের অনুগামী ও দুষ্কৃতীদের বেধড়ক মারধরে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ। সে সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত ওই মৃতদেহ গোপনে পুঁতে দিতে বাধ্য করে। সেই সময় ভয়ে পরিবার কোনো আইনি পদক্ষেপ করতে না পারলেও, সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর মৃতার পরিবার নেজার থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরিবারের সেই জোরালো আর্জি ও আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই সোমবার সন্দেশখালি এক নম্বর ব্লকের নেজার থানার ঝঞ্ঝনিয়া গ্রামে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও ফরেনসিক টিমের কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয় খননকার্য। দীর্ঘক্ষণ মাটি খোঁড়ার পর অবশেষে আস্তিক চন্দ্র দাসের হাড়গোড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেশখালির রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা কীভাবে সমস্ত প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল, এই উদ্ধারকার্য তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।