প্রতিদিন ৭ হাজার টাকার ফুড অ্যালাউন্স! কোম্পানির টাকায় প্রহরীদের পিৎজা খাইয়ে বিতর্কে টেককর্মী

কর্পোরেট দুনিয়ার চাকচিক্য আর বিলাসিতার মাঝে এমন কিছু মানবিক ঘটনা মাঝে মাঝেই সামনে আসে, যা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটের নজর কেড়ে নেয়। সম্প্রতি তেমনই এক অভিনব ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। এক বড় কর্পোরেট কোম্পানির এক কর্মচারীর উদারতা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কেউ তাঁর এই উদ্যোগকে মন খুলে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার একদল মানুষ একে কোম্পানির নিয়মের পরিপন্থী বলে কটাক্ষ করছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন চিকিৎসক নীলেশ নোলখা। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট অনুযায়ী, তিনি সম্প্রতি ‘বিগ ফোর’ খ্যাত একটি নামী কোম্পানির এক পরামর্শক বা কনসালটেন্টের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি জানতে পারেন, ওই সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন খাবার ও পানীয় বাবদ ওই যুবক প্রতিদিন মাথা পিছু প্রায় সাত হাজার টাকা করে খাদ্য বা খাদ্য ভাতা (ফুড অ্যালাউন্স) পেয়ে থাকেন। অঙ্কটা সাধারণ মানুষের কাছে নেহাত কম নয়। কিন্তু সেই বিশাল পরিমাণ টাকা নিজের বিলাসবহুল খাওয়াদাওয়া বা শৌখিনতায় ওড়ানোর বদলে সম্পূর্ণ অন্য এক মহৎ কাজে লাগাচ্ছেন ওই যুবক।
জানা গেছে, প্রতিদিনের ওই মোটা অঙ্কের ভাতায় নিজের জন্য দামি খাবার অর্ডার না করে তিনি নিজের অ্যাপার্টমেন্ট সোসাইটির নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য বড় আকারের পিৎজা অর্ডার করেন। কোম্পানির দেওয়া ফুড অ্যালাউন্সকে কার্যত একটি নিজস্ব সমাজকল্যাণ প্রকল্পে রূপান্তর করেছেন তিনি। তাঁর এই পিৎজা বিলিয়ে দেওয়ার উদার মানসিকতাই তাঁকে স্থানীয় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
নেটনাগরিকদের একাংশ যুবকের এই মানবিক রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যারা শুধু নিজেদের কথা না ভেবে চারপাশের মানুষগুলোর কথা ভাবেন, তাঁরা সত্যিই বিশেষ হন।” অপর এক জনের মতে, “যাঁরা নিজের পয়সায় এই ধরনের দামী খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না, তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো সত্যিই এক মহৎ কাজ।”
অন্যদিকে, কর্পোরেট নিয়মনীতি নিয়ে ওয়াকিবহাল অপর একটি পক্ষ এই কাজের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, কোনো কোম্পানি কি সত্যিই কর্মচারীদের এভাবে নিজেদের ইচ্ছা মতো টাকা খরচ করার ছাড়পত্র দেয়? এক অভিজ্ঞ কর্পোরেট কর্মীর মতে, “এই ধরনের মোটা অঙ্কের ভাতা মূলত ক্লায়েন্ট বা বিজনেস গেস্টদের আপ্যায়নের জন্য দেওয়া হয়, ব্যক্তিগত সমাজসেবা চালানোর জন্য নয়। নিয়মিত এমন কাজ করলে অডিটের মুখে বড় বিপদে পড়তে হতে পারে।” সবমিলিয়ে, ওই যুবকের উদারতা একদিকে যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে কর্পোরেট নিয়মের বেড়াজাল নিয়ে এক অন্য বিতর্কও তৈরি হয়েছে।