প্রতীক জট কাটল না, তার আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল কালীঘাট তৃণমূল!

আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর এই ভোটের ফল ঘোষণা হবে আগামী ৯ অক্টোবর। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরদিনই রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই দুই কেন্দ্র সহ অসমের নগাঁও বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্যও নিজেদের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস।

দলের ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সঞ্চিতা প্রধান দে। অন্যদিকে, রেজিনগর কেন্দ্রটিতে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন রবিউল আলম চৌধুরী। এর পাশাপাশি, অসমের নগাঁও বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্যও প্রার্থী দিয়েছে তারা, যেখানে লড়বেন আব্দুল সালাম।

তবে প্রার্থীরা নাম ঘোষণা হলেও তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও লড়াইয়ের ময়দান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন থেকেই গিয়েছে। কারণ, কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়েই ময়দানে নামতে পারবেন কি না, তা এখনও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত করে উঠতে পারেনি। প্রতীক সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও বিতর্কের এখনও কোনো ফয়সালা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে দুই পক্ষকেই আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অথচ কাকতালীয়ভাবে এই ১৬ সেপ্টেম্বরই হল উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতীক নিয়ে জট বহাল থাকা সত্ত্বেও যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূল, বিজেপি কিংবা বামেরা এখনও পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি, সেখানে এক প্রকার ঝুঁকি নিয়েই প্রার্থীরা তালিকা সামনে এনে মাস্টারস্ট্রোক দিল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। একমাত্র কংগ্রেস ইতিমধ্যে দুই কেন্দ্রেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এছাড়া রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও, যেখান থেকে লড়ছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ। এখন প্রতীক জট কেটে কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থীরা জোড়াফুল প্রতীক পান নাকি অন্য কোনো প্রতীকে তাঁদের লড়তে হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।