হড়পা বানের পর থেকেই নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ! হঠাৎ শুভ্রাংশুর বাড়িতে সিপিআইএম নেতা শতরূপ, চরম উদ্বেগ

কৈলাস-মানস সরোবর সফরে গিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। বিগত বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের পরিবার। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শুভ্রাংশু রায়ের কাঁচরাপাড়ার বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিপিআইএম (CPIM) নেতা শতরূপ ঘোষ এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য দেবাশীষ রক্ষিত।

হড়পা বানের ১০ কিমির মধ্যেই শেষ যোগাযোগ

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ২১ তারিখে একাই একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়।

  • শেষ বার্তা: গত মাসের শেষ মঙ্গলবার রাতে শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর।

  • বিপর্যয়ের কেন্দ্রস্থল: কথা হওয়ার পরই এলাকাটিতে ভয়াবহ হড়পা বান দেখা দেয়। জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ এবং ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গেও আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নবান্ন ও দূতাবাসে দরবার, পাশে থাকার বার্তা শতরূপের

স্ত্রী-র খোঁজে ইতোমধ্যে নবান্ন থেকে শুরু করে ভারতে অবস্থিত নেপাল দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন উদ্বিগ্ন শুভ্রাংশু রায়।

শুভ্রাংশুর বাড়িতে গিয়ে সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শুভ্রাংশুর পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি। শুধু সরকারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে কীভাবে দ্রুত নিখোঁজদের সন্ধান মেটানো যায়, সে বিষয়ে আমরাও আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা চালাচ্ছি। রাজ্যে প্রায় ৩২টি পরিবার প্রিয়জনদের খবর পাওয়ার অপেক্ষায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। সরকারের উচিত সব রকম কূটনৈতিক ও উদ্ধারকারী পথ ব্যবহার করে তাঁদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা।”

উল্লেখ্য, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক হড়পা বানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটক আটকে পড়েন। অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়ের মতো কয়েকজন নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও এখনও বহু মানুষের কোনো খোঁজ মেলেনি।