লিড নিয়েও জিতল না দল! অতিরিক্ত সময়ে গোল খেয়ে জয় হাতছাড়া হলো লিওনেল মেসির

ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমে ফের একবার নিজের জাত চেনালেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। চলতি মরশুমে ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে জাদুকরি পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে একটি দুর্দান্ত গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেনও। কিন্তু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হল না। ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে নাটকীয় ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ইন্টার মায়ামি। ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য মায়ামির রক্ষণভাগের ভঙ্গুর দশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। খেলার মাত্র চার মিনিটের মাথাতেই ন্যাশভিলের হয়ে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্যাম সারিজ। রক্ষণাত্মক ভুলের খেসারত দিয়ে ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে মায়ামি।
তবে দ্রুত খেলায় ফিরে আসার চেষ্টা চালায় দলটি। ম্যাচের ১৯ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসির নিখুঁত কর্নার কিকে দুর্দান্ত হেডার দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ন্যাশভিলেরই রিড বেকার হোয়াইটিং (আত্মঘাতী গোল)। এই গোলেই সমতা ফেরে ম্যাচে এবং ১-১ ফলাফলে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খেলার গতি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় মায়ামি। ম্যাচের ৬২ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের কাছ থেকে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে নেন মেসি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে নিজের ট্রেডমার্ক বাঁ পায়ের চোখজুড়ানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। এই আকর্ষণীয় গোলেই ২-১ ব্যবধানে ম্যাচে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি।
এরপর ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেওয়ার একাধিক সোনালী সুযোগ চলে এসেছিল মায়ামির সামনে। ম্যাচের ৫০ মিনিটে মেসির একটি শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। আবার ৭৮ মিনিটে তাঁর আরেকটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে আরও একবার গোলের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর, কিন্তু ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওস শেষ মুহূর্তে মাথা দিয়ে বল ক্লিয়ার করে নিশ্চিত পতন বাঁচান। একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করার এই চরম খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হয় মায়ামিকে। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে গোল করে বসেন স্যাম সারিজ। তাঁর এই দ্বিতীয় গোলটিই ন্যাশভিলকে ২-২ সমতায় ফিরিয়ে আনে এবং এই স্কোরেই শেষ হয় ম্যাচ।
চলতি মরশুমে ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি ইন্টার মায়ামি। খেলা চার ম্যাচের কোনোটিতেই তারা জয় তুলে নিতে পারেনি। এর আগে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের লড়াই থেকেও মেসিদের ছিটকে দিয়েছিল এই ন্যাশভিল দল। এমএলএসে ঘরের মাঠে লিড ধরে রেখেও পয়েন্ট খোয়ানোর পুরনো রোগ এখনও কাটেনি মায়ামির। চলতি মরশুমে নিজেদের হোম গ্রাউন্ডে এগিয়ে থেকেও তারা ইতিমধ্যে মূল্যবান ১১ পয়েন্ট নষ্ট করেছে। এই ব্যর্থতার তালিকায় তাদের চেয়ে অনেক বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে কেবল নিউইয়র্ক সিটি ও মন্ট্রিয়েল। বর্তমানে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ন্যাশভিলের সঙ্গে ইন্টার মায়ামির পয়েন্টের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯ পয়েন্ট। দলের হাতে রয়েছে আর মাত্র ৯টি ম্যাচ। ফলে আগামী ম্যাচগুলিতে লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করাই এখন মেসি ও তাঁর দলের সামনে সবচেয়ে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।