টাওয়ার ছাড়াই এবার মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট! ১৬০০ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর মেগা পরিকল্পনা জিওর

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পড়াশোনা, কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন পরিষেবা—সবকিছুর জন্যই দ্রুতগতির ইন্টারনেট মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান অন্বেষণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু দেশের এখনও এমন বহু দুর্গম পাহাড়ি কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা রয়েছে, যেখানে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার কেবল পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। এই কাঠামোগত সমস্যা চিরতরে দূর করতে এবার এক যুগান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রিলায়েন্স জিও। প্রযুক্তি জগতের নির্ভরযোগ্য রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি কোণায় হাই-স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে লো আর্থ অরবিট বা এলইও (LEO)-র কক্ষপথে প্রায় ১৬০০টি স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এই টেলিকম জায়ান্ট। পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এই কৃত্রিম উপগ্রহগুলি স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে দেশজুড়ে ওয়্যারলেস স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে জিওর এই অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি? প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিচার করলে, যেসব ভৌগোলিক এলাকায় প্রচলিত উপায়ে মোবাইল টাওয়ার বসানো কিংবা ফাইবার অপটিক্যাল কেবল পাতা প্রায় অসম্ভব, সেখানেও এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ঘন বনভূমি ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে চরম গতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। মাটিতে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করে টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরির অবকাঠামো নির্মাণ না করেই সরাসরি মহাশূন্য থেকে স্যাটেলাইটের সাহায্যে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি পৌঁছে দেওয়া যাবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রদানকারী সংস্থাগুলি বর্তমানে এই একই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহার করছে।
কবে নাগাদ ভারতের বাজারে এই পরিষেবা চালু হতে পারে? বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রিলায়েন্স জিও ২০২৭ সালের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরপর ২০২৮ সালের গোড়ার দিক থেকে বড় পরিসরে স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর কাজ শুরু হবে। কোম্পানির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো, ২০৩০ সালের মধ্যে কক্ষপথে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০টি স্যাটেলাইট সক্রিয় করা। এরপর ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১৬০০টি স্যাটেলাইটের একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা ভারতের টেলিকম ইতিহাসে এক বিরাট বিপ্লব ঘটাবে।
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান বাজারে জিওর এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিযোগিতা যে বহুগুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। বাজারে জিওর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইতিমধ্যেই রয়েছে এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক (Starlink)। পাশাপাশি অ্যামাজন এলইও (Amazon LEO)-এর মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের সঙ্গেও জোরদার প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে জিও। উল্লেখ্য, স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইটগুলি সাধারণত পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে, পক্ষান্তরে জিওর পরিকল্পিত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার উচ্চতায়। সবমিলিয়ে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার বাজারে জিও, স্টারলিঙ্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।