তারাতলাকাণ্ডে ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার হতেই রণক্ষেত্র কলকাতা কর্পোরেশন! ডিজি বিল্ডিংয়ের পদত্যাগ চেয়ে টাঙাল পোস্টার

তারাতলার নির্মীয়মান গুদাম বিপর্যয়ে ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসন। এই ঘটনায় কলকাতা কর্পোরেশনের ৯ নম্বর বোরোর সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার মহল। শুক্রবার দিনভর কলকাতা কর্পোরেশনের বিল্ডিং বিভাগে চলে চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ। ধৃত ইঞ্জিনিয়ারকে সসম্মানে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত শহরজুড়ে ‘পেন ডাউন’ বা কলম বন্ধ রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সমস্ত বোরোর এসই-রা। এর জেরে কলকাতা কর্পোরেশনের সিংহভাগ নির্মাণ ও অনুমোদনের কাজ সম্পূর্ণ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভকারী ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, ৯ নম্বর বোরোর দায়িত্বে থাকা ওই সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডের নির্মাণকাজ ও ফিল্ড ভিজিটের নিয়মিত রিপোর্ট দিতে হতো, যা বাস্তবে একাই সামলানো অসম্ভব। বিশেষ করে সাত কাঠার বেশি বড় নির্মাণের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র বা রিপোর্টের প্রধান দায়িত্ব এমবিসি-র ওপর থাকে। দিনভর বিল্ডিং বিভাগের ডিজি-র ঘরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়াররা। ডিজি উপস্থিত না থাকায় ফোনেও যোগাযোগ করা যায়নি।
বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, নিচুতলার কর্মীরা তো কেবল বিল্ডিং বিভাগের ডিজি-র নির্দেশমতোই কাজ করেন, তাহলে কেন এককভাবে তাদের বলি হতে হবে? এই প্রশ্ন তুলে ডিজি বিল্ডিং উজ্জ্বল সরকারের পদত্যাগের দাবি জানান তাঁরা এবং তাঁর ঘরের দরজায় সাঁটিয়ে দেন পোস্টার। কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের ব্যানারে নয়, বরং সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। উল্লেখ্য, এর আগে তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং আর্কিটেক্টের লাইসেন্স বাতিল করে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল কলকাতা কর্পোরেশন, যার বিরুদ্ধে তাঁরা ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।