স্বামীকে ফাঁদে ফেলতে ১২ বছর আগে ‘মৃত’ সাজলেন স্ত্রী! জেল খাটলেন ৮ জন নিরপরাধ ব্যক্তি, তারপর যা হলো

বিহারের রোহতাস জেলা থেকে এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। যে হত্যা মামলায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন গত ১২ বছর ধরে জেল খাটছেন, সেই মামলার তথাকথিত ‘নিহত’ গৃহবধূকে ঝাড়খণ্ড থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শুধু পুলিশ প্রশাসনই নয়, স্তম্ভিত গোটা এলাকা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৪ সালে। রোহতাসের দেহরি মফস্বল থানার বলরতি বিঘা গ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী দেবী (যিনি কান্তি দেবী নামেও পরিচিত) হঠাৎই নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি ছিল, তিনি গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন বাদেই ২২ আগস্ট একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় এক পাহারাদার ওই মরদেহটি সরস্বতী দেবীর বলেই ভুল শনাক্ত করেন।
পরিবারের এই ভুল শনাক্তকরণের জেরে স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতা ও দেবরসহ মোট আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন ও ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের হয়। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। এদিকে পরিবার মৃতদেহ সৎকারও সম্পন্ন করে। ঘটনার মোড় ঘোরে ঠিক ১২ বছর পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে রোহতাস পুলিশ জানতে পারে যে, সরস্বতী দেবী নাম বদলে ‘ক্রান্তি দেবী’ হিসেবে ঝাড়খণ্ডের গাড়োয়া জেলার কান্দি থানার লাহারি গ্রামে লুকিয়ে বসবাস করছেন।
এরপর রোহতাস পুলিশের একটি বিশেষ দল ঝাড়খণ্ড পুলিশের সহায়তায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করে সাসারাম আদালতে পেশ করে। ১২ বছর আগে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহটি আসলে কার ছিল, তা নিয়ে এখন নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, জেনেশুনে পুলিশ ও প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ওই মহিলার বিরুদ্ধেও আলাদা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ১২ বছর আগের এই ঘটনায় ছেলের বয়স যখন ১০ বছর ছিল, তখন সে মাকে মৃত ভেবেছিল; আজ ২২ বছর বয়সে এসে মায়ের জীবিত ফিরে আসার এই ঘটনায় হতবাক তার পরিবারও।