ঘুমন্ত অবস্থাতেই স্ত্রী ও তিন মেয়েকে থেঁতলে খুন! জয়পুরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কাঠগড়ায় পলাতক স্বামী

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের কারধানি থানার অন্তর্গত গোবিন্দ ভাটিকা এলাকায় এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারী পাথর বা সিমেন্টের ব্লক দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এক গৃহবধূ এবং তাঁর তিন তরুণী কন্যাকে। একসঙ্গে চারজনের এমন নির্মম মৃত্যুর খবর চাউর হতেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কড়া সন্দেহের তির বর্তমানে পলাতক গৃহকর্তা তথা ওই তিন কন্যার বাবার দিকেই। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোবিন্দ ভাটিকা অঞ্চলের একটি বাড়ি থেকে নিহত ওই চার জনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তিন কন্যার বয়স ১৭ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। ঘটনার দিন রাতেরবেলা মা ও তিন মেয়ে নিজেদের ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সুযোগেই অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তাঁদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, ৮৫ বছর বয়সি বৃদ্ধ লক্ষ্মীনাথ ঝাঁ ওই বাড়িতে তাঁর ছেলে রাহুল ঝাঁ, পুত্রবধূ গীতা ঝাঁ এবং তিন নাতনির সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনিই প্রথম ঘরের ভেতর পুত্রবধূ ও নাতনিদের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমে খবর পৌঁছায়।

খবর পাওয়া মাত্রই কারধানি থানার পুলিশ এবং জয়পুর (পশ্চিম)-এর ডিসিপি প্রশান্ত কিরণসহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এমনকি জয়পুরের পুলিশ কমিশনার সচিন মিত্তলও নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। পুলিশ ও ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL)-এর একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈজ্ঞানিক নমুনা, রক্তমাখা পোশাক এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ভারী পাথর বা সিমেন্টের ব্লক উদ্ধার করেছে। নিহতের চারটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলির মাথা ও মুখে আঘাতের তীব্র চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রাহুল ঝাঁ শেয়ার বাজারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী একটি বিউটি পার্লার চালাতেন। ঘটনার দিন সকালে নাকি দুধওয়ালার কাছ থেকে দুধ নিয়ে রাহুল নিজেই চা তৈরি করে তাঁর বাবাকে দিয়েছিলেন এবং তারপরেই রহস্যজনকভাবে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। এদিকে রাহুলের বৃদ্ধ বাবা কানে কম শোনার কারণে রাতের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই টের পাননি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং পলাতক রাহুল ঝাঁকে খুঁজে বের করতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করে বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।