ক্লাব ছাড়লেও কমেনি ক্ষোভ! অস্কার ব্রুজোর বিস্ফোরক অভিযোগ সত্যি হলে কি হাতছাড়া হবে ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহাসিক ট্রফি?

কলকাতা ময়দান ও ভারতীয় ফুটবলের অন্দরে ফের এক অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন সফল কোচ অস্কার ব্রুজো। তাঁরই হাত ধরে দীর্ঘ ২৩ বছর পর জাতীয় পর্যায়ে কোনো ঐতিহ্যবাহী ট্রফি ঘরে তুলেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু ক্লাব ছাড়ার এত দিন পরেও সেই সাফল্যের ঔজ্জ্বল্য ম্লান করে দিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন এই স্প্যানিশ কোচ। সোশাল মিডিয়ার এক্স হ্যান্ডলে অস্কার দাবি করেছেন যে, ক্লাবের ভেতরের এক প্রভাবশালী ‘মাস্টার’ নাকি শেষ ম্যাচের আগে দলীয় সদস্যদের আত্মবিশ্বাসী করতে রেফারি ম্যানেজ করার মতো বিস্ফোরক কথা বলেছিলেন! এই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসার পর থেকেই ময়দানে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগছে যে, তবে কি লাল-হলুদের এই ঐতিহাসিক সাফল্য কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছকের ফল?

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অস্কার ব্রুজো অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, দলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও উন্নতি বজায় রাখতেই তাঁকে ওই রহস্যময় ‘মাস্টার’কে সরিয়ে দিতে বাধ্য হতে হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি অবিরাম দলের অন্দরে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করতেন, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মনোবল ভেঙে দিতেন এবং ড্রেসিংরুমের গোপন কৌশল বাইরে ফাঁস করে দিতেন। এমনকি গত আইএসএল চলাকালীন গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীর বিরুদ্ধেও দলের অন্দরমহলের তথ্য পাচারের জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। অস্কারের দাবি, প্রতিপক্ষ মোহনবাগান অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অনুশীলন চালালেও তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনা জলের মতো বাইরে চলে আসত। আর এই অন্তর্ঘাত থামাতেই তাঁকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। যদিও অস্কার তাঁর পোস্টে বারবার ‘মাস্টার’ শব্দটির উল্লেখ করলেও ঠিক কোন ব্যক্তির প্রতি তাঁর এই আঙুল, তা নিয়ে সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ করেননি।

এই অভাবনীয় অভিযোগের জেরে ফুটবলপ্রেমী মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। অনেকেরই মতে, যদি কোনো দলের ভেতর থেকে রেফারি ম্যানেজ করার মতো গুরুতর কথা বলা হয়ে থাকে, তবে তা ভারতীয় ফুটবলের স্বচ্ছতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়। এই বিস্ফোরক দাবির পর ফুটবল অনুরাগীদের একাংশ দাবি জানাচ্ছেন যে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) অবিলম্বে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করা উচিত। যদি তদন্তে এই ধরনের অনৈতিক কাজের কোনো সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে কি ইস্টবেঙ্গলের জেতা সেই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি কেড়ে নেওয়া হতে পারে? এই জল্পনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় ঝড় তুলেছে।

অন্যদিকে, এই গোটা বিতর্ক প্রসঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার অত্যন্ত সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন যে, অস্কার তাঁদের হৃদয়ের খুব কাছের মানুষ এবং তিনি ক্লাবকে ঐতিহাসিক সাফল্য উপহার দিয়েছেন। তবে অস্কারের এই ব্যক্তিগত মন্তব্য বা কাদের তিনি ‘মাস্টার’ বলে আক্রমণ করেছেন, সেই বিষয়ে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে চায় না। সবমিলিয়ে, অস্কার ব্রুজোর এই একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট যে ময়দানের শান্ত পুকুরে বড়সড় পাথর ফেলেছে এবং ক্লাব ছাড়ার পরেও লাল-হলুদ শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।