১ কোটি টাকার মালিক হতে চান? জেনে নিন SIP-এর সঠিক অঙ্ক!

শেয়ার বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে লাগাতার ওঠানামা লেগেই রয়েছে। তা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি। সুশৃঙ্খলভাবে নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমেই অবসরকালীন জীবন সুরক্ষিত করা কিংবা জীবনের বড় কোনো আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। বহু বিনিয়োগকারীরই চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে দীর্ঘমেয়াদে অন্তত এক কোটি টাকার একটি শক্তিশালী কর্পাস বা তহবিল তৈরি করা। তবে এই সাধের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ঠিক কত টাকা করে প্রতি মাসে এসআইপি করা প্রয়োজন, সেই হিসাব না জানলে বড় বিপাকে পড়তে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদে যদি গড়ে বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়, তবে এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব। এই হিসাব অনুযায়ী, টানা ২০ বছর ধরে প্রতি মাসে মাত্র ১০ হাজার টাকা করে এসআইপি করলে আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ লক্ষ টাকা। বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্নের সাপেক্ষে ২০ বছর মেয়াদ শেষে এই বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ৯১ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। যার অর্থ হল, এই দীর্ঘ মেয়াদে আপনার আনুমানিক নিট লাভ আসতে পারে প্রায় ৬৭ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, আপনি যদি সময়সীমা কমিয়ে ১৫ বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি টাকার বিশাল ফান্ড তৈরি করতে চান, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এই ক্ষেত্রে আপনাকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে এসআইপি করতে হবে। ১৫ বছরের এই বিনিয়োগ যাত্রায় আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ৩৬ লক্ষ টাকা। ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন সাপেক্ষে এই তহবিলের মূল্য হতে পারে প্রায় ৯৫ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র রিটার্ন বাবদ আপনার পকেটে আসতে পারে আনুমানিক ৫৯ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতি মাসে এই ধরনের বড় অংক জমানো সবসময় সহজ নাও হতে পারে। এখানেই কার্যকরী ভূমিকা নেয় স্টেপ-আপ এসআইপি। এসআইপি চলাকালীন প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য আরও দ্রুত অর্জন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দিয়ে এসআইপি শুরু করেন এবং প্রতি বছর নিয়ম করে ১০ শতাংশ হারে বিনিয়োগ বাড়াতে থাকেন, তবে মাত্র প্রায় ১৩ বছরের মধ্যেই ১ কোটি টাকার বিশাল কর্পাস তৈরি করা সম্ভব।

বিকল্প হিসেবে, আপনি যদি আরও কম অংক অর্থাৎ মাত্র ৫ হাজার টাকা মাসিক এসআইপি দিয়ে শুরু করেন এবং প্রতি বছর ১০ শতাংশ করে তা বৃদ্ধি করেন, তাহলেও প্রায় ১৫ বছর কয়েক মাসের মধ্যে ১ কোটি টাকার সোনার লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে আর্থিক বাজারের গতিপ্রকৃতি সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন সম্পূর্ণভাবে বাজারের ওঠানামার উপর নির্ভরশীল। মনে রাখবেন, এখানে উল্লেখিত ১২ শতাংশ রিটার্ন কোনোভাবেই নিশ্চিত বা গ্যারান্টিযুক্ত নয়। তাই যেকোনো স্কিমে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই নিজের আর্থিক লক্ষ্য, বর্তমান অবস্থা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ভালোভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।