পুজোর পরেই কি ভোটের দামামা? নভেম্বরের শেষেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের প্রস্তুতি তুঙ্গে!

শারদোৎসবের আনন্দ মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের ভোটের উত্তাপ ছড়ানোর জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুর্গাপুজোর ঠিক পরপরই বাংলায় পুরভোটের দামামা বেজে যেতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগমে ভোট করানোর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি মাসের শেষেই এই সংক্রান্ত নিজেদের অবস্থান রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেবে নবান্ন।

শুধু এই দুটি বড় শহরই নয়, নভেম্বরের শেষের দিকে রাজ্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সম্ভাব্য তালিকায় বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ের মতো জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভোটপ্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, আসন সংরক্ষণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো প্রাথমিক কাজগুলি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুজোর আগেই প্রশাসনিক স্তরের সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে উৎসব শেষ হওয়ামাত্রই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে।

এদিকে, এই সম্ভাব্য পুরভোটকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও। গেরুয়া শিবির ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ নির্বাচনী কমিটি গঠন করে কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে। কলকাতা পৌরনিগমের ভোটের সামগ্রিক দেখভালের দায়িত্বে রাখা হয়েছে রাজ্য নেতা সুকান্ত মজুমদারকে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত রণকৌশল ঠিক করতে প্রবীণ বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী তাপস রায় এবং স্থানীয় নেতৃত্বদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতায় রাজ্যজুড়ে পুরভোটের উষ্ণতা এখন থেকেই স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছে।