নন্দীগ্রামে মমতাকে ‘জেতাতে’ মরিয়া ঋতব্রত! রাজনৈতিক সৌজন্য নাকি বিরাট কেওটোঁড়ার ফাঁদ?

ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেস। আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে একাধարে কটাক্ষ ও ‘সমর্থনের’ দ্বিমুখী বার্তা ছুড়ে দিলেন একদা সতীর্থ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর শিবিরের স্পষ্ট ঘোষণা, মমতা যদি নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হন, তবে তাঁরা সেখান থেকে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে তাঁকে সমর্থন করবেন।

আপাতদৃষ্টিতে এই সৌজন্যমূলক বার্তার আড়ালে অবশ্য মমতার নির্বাচনী লড়াই এবং জয় নিয়ে তীব্র শ্লেষ লুਕিয়ে রাখেননি ঋতব্রত। তাঁর দাবি, সাধারণ নির্বাচনে মমতার জয়ের কোনো ‘রেকর্ড’ নেই, বরং উপনির্বাচনেই তাঁর জয়ের নজির রয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার নিজের বুথ ও ওয়ার্ডে হেরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনেও আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি নিছক সমর্থন নয়, বরং মমতার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর একটি সুকৌশলী চাল। একুশের মতো এবারও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তরজা চরমে উঠেছে।

এরই সমান্তরালে দিল্লির রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়েছে আরও এক বড় লড়াই। ‘আসল তৃণমূল’ কারা এবং দলের প্রতীক কার হাতে থাকবে, সেই ফয়সালার জন্য শনিবার নির্বাচন কমিশনের দরজায় মুখোমুখি হতে চলেছে দুই শিবির। উভয় পক্ষের পাঁচ জন করে প্রতিনিধি এই শুনানিতে উপস্থিত থাকছেন। ঋতব্রত শিবিরের স্পষ্ট দাবি, নন্দীগ্রাম সহ উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় প্রতীক ঝুলে থাকলে দুই শিবিরের প্রার্থীদেরই নির্দল হিসেবে ময়দানে নামার নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে, আগামী ৬ অক্টোবর ভোটের দিন ঘোষণার আগেই রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।