৫০০০ কোটি টাকার বিরাট বিনিয়োগ! পুজোর ঠিক আগে রাজ্যে কাজের ঝড় তুলছে এই নামী সংস্থা!

পুজোর ঠিক আগে এক অভিনব ও তাক লাগানো চমক দেখল তিলোত্তমা। শহর কলকাতার সল্টলেকের সিটি সেন্টার ১ চত্বরে তৈরি হলো বিশ্বের বৃহত্তম ‘ফ্যাশন ওয়ারড্রোব’। শুক্রবার জমকালো এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশাল আকৃতির ইনস্টলেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ এবং ২০ ফুট চওড়া এই সুবৃহৎ ওয়ারড্রোবটি তৈরির সঙ্গে সঙ্গেই গড়ে ফেলেছে এক বিশ্বরেকর্ড। উদ্বোধনী মঞ্চেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর পক্ষ থেকে এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ সংস্থার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। এদিনের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনিক কর্তারা।
এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটিকে বাংলার শিল্প সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল ও ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি খোলামেলাভাবে জানান যে বিগত দিনে রাজ্যে ব্যবসা ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তবে বর্তমান সরকার গত চার মাসে সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য একাধিক কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, অতীতে সিন্ডিকেট ও কাটমানির মতো সংস্কৃতিতে বাংলার ব্যবসায়িক পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে রাজ্যে একটি সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বচ্ছ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর সেই কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করেছেন।
শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক বিরাট সুখবর শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই বেসরকারি সংস্থাটি বর্তমানে রাজ্যে তাদের বিনিয়োগের পরিসর আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই মুহূর্তে রাজ্যে এই সংস্থার ১১০টি স্টোর সচল রয়েছে, যা আগামী দিনে বাড়িয়ে মোট ২৫০টিতে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর ফলে রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। দেশজুড়ে এই সংস্থার প্রায় ১০টি রাজ্যে মোট ২৭৫টি স্টোরে সরাসরি ছয় হাজার এবং পরোক্ষভাবে পঁচাত্তর হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর পাশাপাশি ৮২৫ জন এমএসএমই ভেন্ডারও এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
বিনিয়োগের পরিধি আরও ব্যাপক করতে এই সংস্থাটি রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক সোলার প্ল্যান্ট বা সৌরশক্তি প্রকল্প তৈরিরও প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জমি সরবরাহ করা হবে। সম্প্রতি নিউটাউনে এলঅ্যান্ডটি-র ডেটা সেন্টার উদ্বোধনের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে বর্তমানে বাংলা বিনিয়োগের জন্য কতটা উর্বর ও অনুকূল হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, বর্তমানে এই সংস্থার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে আরও ৫০০০ কোটি টাকা বিশাল বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বিশ্বমঞ্চে বাংলার এই অর্জন এবং এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রাজ্যের অর্থনীতিকে যে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাধারণ আসবাবপত্র ও ফ্যাশনকে শিল্পের রূপ দিয়ে উৎসবের মরসুমের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার এই অভিনব প্রয়াস ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রদর্শনের জন্য এই বিশাল ওয়ারড্রোবটি খোলা থাকবে।