কোসি নদীর করাল গ্রাসে নিমেষে ধসে গেল রেললাইনের বাঁধ! চরম আতঙ্কে কাঁপছে ভাগলপুরের একাধিক গ্রাম

বিহারের ভাগলপুর জেলার নাভগাছিয়া থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ খবর সামনে এসেছে। রাংড়া চক ব্লকের বানিয়া এলাকায় কোসি নদীর ক্রমবর্ধমান জলস্তর এবং জলের প্রবল স্রোতের চাপে একটি রেললাইনের বাঁধের প্রায় ১৫ মিটার অংশ হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়েছে। গত রাতের তীব্র ঝড় ও একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে বাঁধের উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোসি নদীর গর্জমান জল দ্রুত আশেপাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হুহু করে প্রবেশ করতে শুরু করে। যার জেরে স্থানীয় সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জলের এই অপ্রতিরোধ্য স্রোত এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সাধোপুর, মাসুদনপুর, বাইসি, ভবানীপুর এবং নবগাছিয়া-বানিয়ার মতো সংবেদনশীল নিচু এলাকা ও আবাসিক গ্রামগুলির দিকে ধেয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, কোসির এই তীব্র জলের স্রোত সাধোপুর থেকে বানিয়া পর্যন্ত সংযোগকারী প্রধান সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণ গ্রাস করে ধ্সিয়ে দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাংড়া ব্লকের মাদরৌনি ও ছাপ্পারের মতো বিস্তীর্ণ গ্রামগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। এই রেল বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় গোটা অঞ্চলটির ওপর আরও এক বিশাল বড় বিপর্যয়ের খাঁড়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতির চরম গুরুত্ব উপলব্ধি করে ভাগলপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অলঙ্কৃতা পান্ডে ব্যক্তিগতভাবে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং ঘটনাস্থলে দ্রুত ত্রাণের বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন, জলসম্পদ দফতর এবং রেল বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও কর্মীরা অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন।
উত্তাল নদীর হিংস্র ঢেউয়ের মাঝেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন কর্মীরা। তবে নদীর জলপ্রবাহের তীব্র গতি এই মেরামত ও পুনরুদ্ধারের কাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বিডিও প্রিয়াঙ্কা কুমারী এবং প্রশাসনিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতির তদারকি করছেন। এলাকার বাসিন্দা পীযূষ রাজ ও মোহাম্মদ ইফতেখার আতঙ্কিত কণ্ঠে জানিয়েছেন যে জলের গতি এতটাই ভয়াবহ যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে। এই মুহূর্তে প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জলের এই প্রচণ্ড স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যত দ্রুত সম্ভব বাঁধটি মেরামত করে জনবহুল এলাকাগুলোকে রক্ষা করা।