মায়ের মরদেহের পাশে বসে হাউমাউ করে কান্না চিন্ময়কৃষ্ণের! ৫ ঘণ্টার প্যারোল পেতেই ভাইরাল মর্মান্তিক ছবি

বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশে কারাবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে মাত্র ৫ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের নিথর দেহ দেখতে পেলেন। মায়ের মরদেহের পাশে বসে তাঁর হাউমাউ করে কান্নার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রতিবেশ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। জীবনের শেষ সময়ে মা একবারের জন্য ছেলেকে দেখতে চেয়ে আকুতি জানালেও, সে দেশের প্রশাসন ও আদালত সেই আর্জি বারবার খারিজ করে দিয়েছিল। এই অমানবিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিতা বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে তিনি শুধু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিচারব্যবস্থার তীব্র নিন্দা জানাননি, বরং নিজের জীবনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথাও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
লেখিকা তসলিমা নাসরিন নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের এই বুকফাটা যন্ত্রণা তিনি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারেন। অতীতে তাঁর নিজের বাবা যখন মৃত্যুশয্যায় শুয়ে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন, তখন তিনিও তৎকালীন সরকারের কাছে মাত্র দুদিনের জন্য বাংলাদেশে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু সেই আকুতিও পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তসলিমা জানান, ২০০৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাবার প্রয়াণ ঘটেছিল, অথচ তাঁকে শেষবারের মতো বাবার মুখখানিও দেখতে দেওয়া হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের তুলনা টেনে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ক্ষমতার অন্ধমোহ এবং নিষ্ঠুরতাও কি তবে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়? চিন্ময়কৃষ্ণের মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণে বাধা দেওয়ায় তিনি বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন।
অন্যদিকে, আরও একটি বিস্ফোরক পোস্টে বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের বিতর্কিত আইনি বিধানকে সরাসরি ধিক্কার জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, চিন্ময়কৃষ্ণের মায়ের শারীরিক অবস্থা যে অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তিনি যে মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখতে ব্যাকুল, তা সরকারের অজানা ছিল না। অথচ প্রশাসনিক তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, অসুস্থ মাকে দেখার জন্য প্যারোল মঞ্জুর করার কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বিধান নেই। তবে মা মারা গেলে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য নাকি কয়েক ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এই অদ্ভুত রাষ্ট্রীয় যুক্তির কড়া সমালোচনা করে লেখিকা লিখেছেন যে, আইন মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করার জন্য তৈরি হয়, নাকি মানুষকে পদে পদে অপমান করার জন্য আইনের ধারাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়? ৫ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত প্যারোল এবং মায়ের অন্তিম যাত্রার এই করুণ দৃশ্য সমগ্র উপমহাদেশজুড়ে মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে এক গভীর ও সংবেদনশীল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।