ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু দিল্লিতে, মোদি-পুতিন বৈঠকে কোন বড় চালে কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি?

দিল্লিতে জমজমাট আয়োজন শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর চলা এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির রাষ্ট্রনায়করা এখন ভারতের রাজধানীতে উপস্থিত। ২০২৬ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবে ভারত বাণিজ্য, পেমেন্ট ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতায় এক বিরাট পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে।
আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় পরমাণু সহযোগিতা, প্রস্তাবিত ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ যুদ্ধবিমান এবং রাশিয়ার অশোধিত তেলের ওপর মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পেয়েছে। গত ৩১ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে ভারত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ফায়দা তুলতে মরিয়া। ভারতীয় ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এবং রফতানি বাজার আরও শক্তিশালী করতে ব্রিকসকে বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত কার্যকর করে তোলাই ভারতের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে সদস্য দেশগুলোতে ব্যবসা করতে গেলে পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা, সার্টিফিকেশনের বাধা এবং অর্থায়নের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ভারতীয় সংস্থাগুলোকে। এই সম্মেলন থেকে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা এবং ছোট ব্যবসার বৈশ্বিক প্রসার সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পমহলের অভিমত, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ব্রিকস দেশগুলিতে ভারতের পণ্য রফতানি আনুমানিক ৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং পরিষেবা রফতানি ছিল ৩১.৩ বিলিয়ন ডলার। ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজিটাল পরিষেবা এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত এখন অনন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
পাশাপাশি, আর্থিক সংযোগ এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চাইছে নয়াদিল্লি। ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করা এবং স্থানীয় মুদ্রার লেনদেন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ইউপিআই (UPI) মডেল এক্ষেত্রে সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির বাইরেও গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ রক্ষা এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের মতো জটিল ইস্যুতে মোদি সরকারের এই নেতৃত্ব বিশ্বমঞ্চে ভারতকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।