শেয়ার বাজারে রক্তগঙ্গা! নিমেষে ৪ লক্ষ কোটি উধাও করে দিতে সক্রিয় কোন ৬ ‘হৈভান’?

টানা তিন দিন ধরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং একাধিক নেতিবাচক অর্থনৈতিক কারণে রীতিমতো আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা। গত তিন কার্যদিবসে প্রধান সূচক সেনসেক্স ১৭৫০ পয়েন্টের বেশি পতনের মুখ দেখেছে, যার ফলে ধস নেমেছে লগ্নিকারীদের সম্পত্তিতেও।

কতখানি ক্ষতি হলো শেয়ার বাজারের?

তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের লাগাতার পতনের জেরে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ থেকে এক ধাক্কায় ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি উধাও হয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র একদিনেই দুই লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সেনসেক্স প্রায় ৮১৩ পয়েন্ট কমে ৭৪,৭৬৪ অঙ্কে এবং নিফটি৫০ প্রায় ২০৪ পয়েন্ট খসে ২৩,৪৩১ অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে।

বাজারে এই চরম বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে প্রধানত ৬টি কারণ:

  1. অচেতন গতিতে ছুটছে কাঁচা তেল: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

  2. ইরান ও আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত এবং হুতি বিদ্রোহীদের হামলার জেরে বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

  3. আইপিও-র (IPO) জোয়ার: সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বড় বড় মেইনবোর্ড আইপিও আসায় সেকেন্ডারি বাজার থেকে বিশাল পরিমাণে তরল অর্থ বা ক্যাশ প্রাইমারি বাজারের দিকে চলে গেছে, যা নিফটি ও সেনসেক্সের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

  4. আইটি (IT) শেয়ারে ধস: ইনফোসিস, টিসিএস, টেক মহিন্দ্রা এবং এইচসিএল টেকের মতো হেভিওয়েট আইটি কোম্পানিগুলির শেয়ার মূল্য ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ায় সার্বিক সূচক নিচে নেমেছে।

  5. টাকার মানের রেকর্ড পতন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম কমে ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছানোর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি করে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেছেন।

  6. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার বিক্রি: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়ায় শেয়ার বাজারে বিক্রির চাপ লাগাতার বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির, তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ লগ্নিকারীদের অত্যন্ত সতর্ক ও বুঝে শুনে পা ফেলা উচিত।