নজর কাড়ছে অমরাবতীর শিশু ওয়ার্ড অগ্নিকাণ্ড: সাসপেন্ড সিভিল সার্জন, এবার কী তবে ফৌজদারি মামলা? তীব্র চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

অমরবর্তী জেলার সরকারি মহিলা হাসপাতালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড এবং নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল সরকার। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক এবং সিভিল সার্জন সহ মোট পাঁচ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করা হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের পর থেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি জোরালো ফৌজদারি মামলা দায়ের করার দাবি উঠেছে।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের নবজাতক শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ-তে আগুন লাগার ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ফায়ার সেফটি সিস্টেম নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের খবর, হাসপাতালে ইনস্টল করা ফায়ার অ্যালার্মটি এর আগে বারবার বেজে ওঠার কারণে কর্মীরা বিরক্ত বোধ করতেন, যার জেরে ওই গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেমটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও, এই তদন্তের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট বা পূর্ত দপ্তরের ভূমিকাও নজরে এসেছে। পূর্ত দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী বা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও এখন জোরালোভাবে তদন্তের আওতায় রয়েছেন। জানা গেছে, পিডব্লিউডি মন্ত্রী শিবেন্দ্ররাজে ভোসলে আগামীকাল অমরবর্তী সফরে আসছেন। মন্ত্রীর এই সফরের আগেই পূর্ত দপ্তরের অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বড়সড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত সর্বসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন। গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত দোষীদের মুখোশ উন্মোচন করতে রিপোর্টের প্রতিটি পাতা স্বচ্ছভাবে জনসমক্ষে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। পাঁচ আধিকারিকের সাসপেনশনের পর এখন সকলের নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অপরাধমূলক মামলা দায়েরের দিকে।