পকসো মামলায় ধৃত শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে আদালতের বাইরে ধুন্ধুমার! শত শত ছাত্রছাত্রীর বিক্ষোভ

পকসো (POCSO) আইনে গ্রেফতার হওয়া এক স্কুল শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিনহাটা আদালত চত্বর। বুধবার সকালে আদালতের বাইরে কয়েকশো ছাত্রছাত্রী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের স্পষ্ট দাবি, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাদের প্রিয় শিক্ষককে ফাঁসানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের জেরে এদিন ওই শিক্ষককে সশরীরে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি এবং ভার্চুয়ালি মামলার শুনানির পর তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ আগস্ট। কোচবিহারের দিনহাটা এলাকার একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক এক অস্থায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। পরের দিন অর্থাৎ ২৬ আগস্ট ছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রেখে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিল পড়ুয়ারা। এর আগে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তাঁরা।

বুধবার নির্ধারিত দিনে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পেশ করা হবে খবর পেয়ে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় জমায় শত শত ছাত্রছাত্রী। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষককে অবিলম্বে সসম্মਾਨমুক্ত করার দাবি তোলে তারা। পড়ুয়াদের পাশাপাশি স্থানীয় অভিভাবকদের একাংশও শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে এমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রও উঠে এসেছে এই ঘটনায়। অভিযোগকারী নাবালিকার বাবা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে এলাকার একাংশ প্রভাবশালী ও অভিভাবক তাঁদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো তাঁদেরই কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে কঠোর নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। আপাতত ভার্চুয়াল শুনানিতে জামিন খারিজ হওয়ায় শিক্ষক জেল হেফাজতেই রয়েছেন, আর অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।