পৈশাচিক কান্ড! নিজ সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন মা, কাঁপছে বিহার

মাতৃত্বের এক চরম মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহারের দারভাঙা জেলা। বশে না থাকা রাগের বশে নিজেরই কলিজার টুকরো অবুঝ সন্তানকে মারধর করছিল এক পাষণ্ড। সেই মারধর থেকে নাতিকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন খোদ তার ঠাকুমা। আর নিজের সন্তানকে এই অমানবিক নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত রাখতে চাওয়াই কাল হলো ওই প্রৌঢ়ার জন্য। প্রতিবাদ করার অপরাধে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের মাথাতেই বাঁশ দিয়ে একের পর এক নৃশংস আঘাত হানল সেই নরপিশাচ পুত্র। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন ৬০ বছর বয়সি বৃদ্ধা প্রমিলা দেবী।
রবিবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দারভাঙার ফেकला থানা এলাকার বिसবিঘা গ্রামে। নিহত প্রমিলা দেবী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা উপেন্দ্র যাদবের স্ত্রী। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ছেলে জ্ঞানী কুমার যাদব তার নিজের ছেলেকে বেধড়ক মারধর করছিল। নাতির সেই আর্তনাদ ও কান্না দেখে স্থির থাকতে পারেননি দাদি প্রমিলা দেবী। তিনি এগিয়ে গিয়ে ছেলেকে এমন নির্মমভাবে মারতে নিষেধ করেন এবং হাত থেকে টেনে সরানোর চেষ্টা করেন।
আর এই সামান্য প্রতিবাদেই উগ্র রূপ ধারণ করে সেই পাষণ্ড পুত্র। মায়ের মুখের ওপরেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে সে। মুহূর্তের বশে ঘরের বাইরে পড়ে থাকা একটি ভারী বাঁশ তুলে নিয়ে সজোরে আঘাত করে মায়ের মাথায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাঁশের একাধিক গুরুতর আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন প্রমিলা দেবী। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মাথার খুলিতে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মায়ের প্রাণহীন দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত ছেলে জ্ঞানী কুমার যাদব।
দিনের আলোয় এমন লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে রীতিমতো থমকে গেছে পুরো গ্রাম। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারাই সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানান। খবর পাওয়া মাত্রই ফেकला থানা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পুলিশ এসে প্রমিলা দেবীর নিথর দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরেই বর্বরোচিত এই কান্ডের প্রধান অভিযুক্ত ছেলে জ্ঞানী কুমার যাদবকে ধরতে তৎক্ষণাৎ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। পুলিশের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ফেकला থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বশিষ্ঠ কাপর গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্তে পরিষ্কার হয়েছে যে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় এবং নাতিকে মারধর করাকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এর পেছনে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ছাড়া অন্য কোনো গভীর পারিবারিক শত্রুতা বা কারণ লুকিয়ে ছিল কি না। এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকার প্রতিটি মানুষ। আইনের কঠোর হাতে যেন এই কুলাঙ্গার পুত্রের উপযুক্ত শাস্তি হয়, এখন সেটাই দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।