এক লাফে ১০০ ডলার পার ব্রেন্ট ক্রুড! এক লিটার ডিজেল বেচেই ২৩ টাকা লোকসান দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলো!

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের গণ্ডি পার করে গেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর ওপর। যদিও দেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান চড়া দামের কারণে তেল বিক্রি করতে গিয়ে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে কোম্পানিগুলো।

পেট্রোল-ডিজেলে কত হচ্ছে লোকসান?

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে পরিসংখ্যান বলছে, তেল কোম্পানিগুলোকে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রিতে প্রায় ৫ টাকা এবং ডিজেল বিক্রিতে রেকর্ড প্রায় ২৩ টাকা পর্যন্ত লোকসান সহ্য করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি গার্হস্থ্য বা ঘরোয়া রান্নার এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার পিছু প্রায় ২০০ টাকার কাছাকাছি আন্ডার-রিকভারি বা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

দাম অপরিবর্তিত শেষ কবে?

দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এক জায়গায় স্থির রয়েছে। এর আগে গত ২৫ মে শেষবারের মতো জ্বালানির দাম সংশোধন করা হয়েছিল। সেই সময় পেট্রোল প্রতি লিটারে প্রায় ২.৬১ টাকা এবং ডিজেল প্রায় ২.৭১ টাকা মহার্ঘ হয়েছিল। তারও আগে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল চড়া থাকায় এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে একাধিক ধাপে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সবমিলিয়ে সে সময় চার দফায় পেট্রোল লিটারপ্রতি ৭.৩৫ টাকা এবং ডিজেল ৭.৫৩ টাকা পর্যন্ত দামি হয়েছিল।

ভারতের তেল আমদানিতে হু হু করে বাড়ছে খরচ

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কাঁচা তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশের বেশি কাঁচা তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরাসরি তার কোপ পড়ে ভারতের আমদানি বিলের ওপর। পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেল (PPAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ভারতের কাঁচা তেল আমদানির খরচ ৫৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই অঙ্কটা ছিল প্রায় ৪০.৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও এই সময়ের মধ্যে ভারতের কাঁচা তেল আমদানির পরিমাণ প্রায় একই অর্থাৎ স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় ৮১.৯ মিলিয়ন টন কাঁচা তেল আমদানি করা হয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮১.৫ মিলিয়ন টন।