‘স্বাধীন’ হতে মা-বাবার বকুনিতে বাড়ি ছাড়ল পাঁচ স্কুলছাত্রী! এক টোটোচালকের বুদ্ধিতে যা ঘটল, জানলে চমকে যাবেন

মা-বাবার বকুনি এবং নিয়মের কড়াকড়ি অসহ্য হয়ে উঠেছিল। তাই ‘স্বাধীন’ জীবন কাটাতে পিঠে ব্যাগ নিয়ে একেবারে ঘর ছেড়েছিল সপ্তম শ্রেণির পাঁচ নাবালিকা। কোচবিহারের শীতলকুচি থানার গোসাইহাট এলাকার এই পাঁচ স্কুলছাত্রীর অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি শিবরাম চক্রবর্তীর ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ উপন্যাসের কথা মনে করিয়ে দিলেও, শেষ পর্যন্ত এক সাহসী ও সৎ টোটোচালকের তৎপরতায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল তারা। বর্তমানে নিরাপদে ঘরের মেয়েদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, কিছুদিন ধরেই ওই পাঁচ কিশোরী বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছিল। পরিকল্পনা মাফিক তারা স্কুল ড্রেস পরেই বাড়ি থেকে বের হয় এবং প্রথমে কোচবিহার বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়। সেখানে এক টোটোচালক আবুল বশিদের টোটোয় চেপে তারা নিউ কোচবিহার স্টেশনে যায়, উদ্দেশ্য ছিল সেখান থেকে ট্রেনে চড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া। কিন্তু স্টেশনে পৌঁছানোর পর ভয় ও দ্বিধায় তাদের পরিকল্পনা কিছুটা বদলে যায়। তারা ফের ওই একই টোটোয় চেপে কোচবিহার শহরে ফিরে আসে এবং থাকার জন্য একটি ঘর ভাড়া খোঁজার বায়না ধরে।

স্কুলপড়ুয়াদের মুখে ঘর ভাড়ার কথা শুনে টোটোচালক আবুল বশিদের মনে তীব্র সন্দেহ জাগে। তিনি বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বুঝতে পারেন যে বাবা-মায়ের বকুনিতে অতিষ্ঠ হয়েই তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। এরপর কালবিলম্ব না করে তিনি সরাসরি রাজবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে পুরো বিষয়টি জানান। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করে নাবালিকাদের থানায় নিয়ে আসে এবং কাউন্সেলিংয়ের পর তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়।

এদিকে বাড়িতে মেয়েদের না পেয়ে ততক্ষণে হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। শীতলকুচি থানা ও কোতোয়ালি থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সেরে ওই পাঁচ নাবালিকাকে তাদের উদ্বিগ্ন বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দায়িত্বশীল এক টোটোচালকের এমন সময়োপযোগী ও মানবিক ভূমিকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের প্রতি অভিভাবকদের একটু বেশি সংবেদনশীল ও ভালোবাসার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিদরা।