ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে কি ফের কলকাতায় ফিরবেন? প্রাক্তনী ওপোকুর বিস্ফোরক ও আবেগঘন মন্তব্যে তোলপাড়!

প্রায় ২৮ বছর আগের কথা। ১৯৯৮ সালে ঘানা থেকে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলতে এসেছিলেন তিন বিদেশী ফুটবলার—সুলে মুসা, জ্যাকসন এবং ইমানুয়েল ওপোকু। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কম সময় কলকাতায় কাটালেও লাল-হলুদ সমর্থকদের হৃদয়ে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছেন মিডফিল্ডার ইমানুয়েল ওপোকু। সুদূর ঘানা থেকে এক সাক্ষাৎকারে সেই সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এই প্রাক্তন তারকা।
চল্লিশোর্ধ লাল-হলুদ সমর্থকদের আজও স্পষ্ট মনে আছে ১৯৯৮-৯৯ মরসুমের ডুরান্ড কাপের কথা, যেখানে মাঝমাঠ থেকে ওপোকুর করা বুলেট গতির শট দলকে ট্রফি জিতিয়েছিল। পুরনো সেই ম্যাচের কথা উঠতেই ওপোকু বলেন, “আমার সব কথাই মনে আছে। দূরপাল্লার শটে করা সেই গোল এবং ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের উল্লাস আজও আমার মনে তাজা। কলকাতায় সেই দিনগুলি বড় সুন্দর ছিল।”
কলকাতায় আসার পেছনের ইতিহাসও বেশ রোমাঞ্চকর। সে সময় কেনিয়ার জাতীয় দলের অধিনায়ক স্যামুয়েল ওমোলো মোহনবাগানে চলে যাওয়ায় রক্ষণ নিয়ে সংকটে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার চিমা ওকেরিকে আটকানোর দায়িত্ব নিয়ে ঘানা থেকে ওপোকু, মুসা ও জ্যাকসনকে উড়িয়ে এনেছিলেন তৎকালীন ম্যানেজার স্বপন বল। মাঠে নেমেই নজর কাড়েন তাঁরা। গ্যালারিতে তখন বিখ্যাত স্লোগান উঠেছিল—’আইলো ঘানা, চিমা কানা!’
মাত্র এক মরসুম ইস্টবেঙ্গলে খেলে ফিরে গেলেও আজও ক্লাবটির প্রতিটি খবরের খোঁজ রাখেন ওপোকু। সতীর্থ সুলে মুসার মতো তিনিও ভবিষ্যতে লাল-হলুদ ব্রিগেডের কোচ হিসেবে কলকাতায় ফিরে আসার সুপ্ত ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমার দল ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে কলকাতায় ফিরতে পারলে খুব ভালো লাগবে। সমর্থকদের আমি খুব মিস করি, ওনাদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।” এত বছর কেটে গেলেও বাংলার মাটির প্রতি এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতি এই বিদেশি ফুটবলারের নিখাদ ভালোবাসা ও টান আজও অমলিন।