শিশুদের হেনস্থা নিয়ে বড় পদক্ষেপ! মেটা-র ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে সরাসরি তলব শিশু সুরক্ষা কমিশনের

শিশুদের হেনস্থামূলক এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রকাশের গুরুতর অভিযোগের জেরে এবার তলব করা হল মেটা (ইন্ডিয়া)-র ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে। জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের তরফে এই তলব করা হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত হওয়া কিছু বিশেষ বিজ্ঞাপন ঘিরে এই বিতর্ক দানা বেঁধেছে, যেগুলিতে শিশুদের ভুল বোঝানো এবং হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই স্পর্শকাতর ইস্যুটিতে কমিশন ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্রের খবর, গত ৩ জুলাই ওই নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও ব্যাখ্যা চেয়ে মেটার কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর মেটার তরফ থেকে উত্তরও আসে। সেই জবাব খতিয়ে দেখার পরেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। তবে মেটা ঠিক কী উত্তর দিয়েছে, সে বিষয়ে কমিশন এখনই প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। মূল বিষয় হল, ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে কীভাবে ওই ধরনের বিজ্ঞাপন জায়গা পেল এবং ভবিষ্যতে তা কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেই বিষয়ে স্পষ্ট জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এই একই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রযুক্তি মন্ত্রক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রককে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কেবল কোন ব্যক্তি বা অ্যাকাউন্ট ওই কনটেন্ট আপলোড করল, সেটাই এখানে একমাত্র দেখার বিষয় নয়; বরং এর পুরো পাবলিশিং সিস্টেম বা প্রকাশনা ব্যবস্থাকে কড়া নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে। তবে মেটার পক্ষ থেকে আগেই দাবি করা হয়েছে যে, ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি ইতিমধ্যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার জেরে প্রায় ১.৬ লক্ষ অ্যাকাউন্টও ডিলিট বা ব্লক করা হয়েছে বলে মেটার তরফে জানানো হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে এই কড়া পদক্ষেপে এখন প্রযুক্তি মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।