সৌদি আরবে হুথিদের ভয়াবহ হামলা! ৭৩ জনের জখম হওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ ভারতের

সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো এবং তেল স্থাপনাগুলির ওপর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের উস্কানিমূলক হামলা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক জলপথ তথা বাব-अल-মंदेब প্রণালীতে বাণিজ্যের স্বাধীন চলাচলের ক্ষেত্রেও এক মারাত্মক বড় হুমকি তৈরি করছে। বুধবার নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া দিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন ইরান-সমर्थিত হুথি বিদ্রোহীরা এক বিশাল সামরিক অভিযানের দাবি করে দক্ষিণ সৌদি আরবের জ্বালানি জায়ান্ট ‘সৌদি আরামকো’র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালায়। সৌদি প্রশাসনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই নাশকতামূলক হামলার ফলে একাধিক তেল শোধনাগার ও ইউটিলিটি সাইটে বিধ্বংসী আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ৭৩ জন সাধারণ নাগরিক ও কর্মী গুরুতর আহত হন। দক্ষিণ সৌদি আরবের এই অঞ্চলটিতে জিজান রিফাইনারির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এনার্জি হাব রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪ লক্ষ ব্যারেল কাঁচা তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাব-अल-মंदेब স্ট্রেইটের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছ। সৌদি আরবের সার্বভৌম অঞ্চল, বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব এখনও ভারতের শীর্ষ তিনটি প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশের অন্যতম হিসেবে বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সাম্প্রতিক এই সংঘাত ২০২০ সালের পর থেকে চলা দীর্ঘতম যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ভেঙে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। লোহিত সাগরকে আডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী এই অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথে বিদ্রোহীদের এই আগ্রাসী ভূমিকা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।