“রাহুল গান্ধী কোনো ভিআইপি নন!” মানহানি মামলায় কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে চলমান মানহানি মামলার শুনানিতে এক কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, আইন সবার জন্য সমান এবং রাহুল গান্ধী দেশের অন্য সাধারণ নাগরিকদের মতোই একজন। আদালতের মতে, বিশেষ কোনো সুবিধা পাওয়ার অধিকার ভিআইপি বা ভিভিআইপি তকমাধারীদের নেই। আদালতের এই স্পষ্ট অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন অভিযোগকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন বিশিষ্ট ও সিনিয়র আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর দায়ের করা আপিল আবেদনটি গত পাঁচ মাস ধরে শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে এবং নিয়মিত তালিকায় উঠলেও তার শুনানি সম্পন্ন হচ্ছে না। আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বিচার ব্যবস্থার কাঠামোর জন্য ইতিবাচক কোনো বার্তা বহন করে না।
এই যুক্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রক্রিয়াগত নিয়মের ওপর জোর দেন। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আসুন আমরা সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করি। যদি এই মামলার দ্রুত শুনানি চান, তবে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট আবেদন দাখিল করুন। আমাদের কাছে আদালতের কাঠামোর সামনে সবাই সমান। অনুগ্রহ করে দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানান, আমরা নিশ্চিতভাবেই তা শুনব।”
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও সমানাধিকারের নীতিকে আরও একবার সুদৃঢ় করল। ভিআইপি সংস্কৃতি বা বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবিকে নস্যাৎ করে আদালত বুঝিয়ে দিল যে, আদালতের চোখে মামলার গুরুত্ব বিচার্য হলেও বিচারপ্রার্থী বা অভিযুক্তের পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয় না। এখন দেখার বিষয়, বাদী পক্ষ দ্রুত শুনানির জন্য নতুন করে আবেদন দাখিল করার পর শীর্ষ আদালত এই আলোচিত মানহানি মামলায় পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।