যুদ্ধ থামার নাম নেই! আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আগুনে এক লাফে ১০০ ডলার ছুঁল অশোধিত তেলের দাম!

মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে ফের একবার দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ভয়াবহ সামরিক সংঘাত। আর এই দীর্ঘমেয়াদী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। নতুন করে দুই দেশের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে চড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০০ ডলারের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই মুহূর্তে বিশ্ব বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৯.৩৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা একদিনের ব্যবধানে প্রায় ১.৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম ব্যারেল পিছু ৯৪.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে, যার বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে ১.৫৪ শতাংশ হারে।
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা ও ইরানের এই সামরিক সংঘাতে মাঝে কিছুদিনের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি দেখা গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। বুধবার সকালেই ইরানের মোট পাঁচটি তেলের ট্যাঙ্কার সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সেনা, যেগুলিতে প্রচুর পরিমাণে অশোধিত তেল মজুত ছিল বলে জানা গিয়েছে। এর ঠিক একদিন আগেই ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে নিশানা করে একাধিক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সেই মারাত্মক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছে যে, জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকার একটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। আকাশে থাকা মার্কিন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সাহায্যে ১৮ থেকে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া হলেও, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁকা জায়গায় আছড়ে পড়ে। সৌভাগ্যবশত জনবসতিপূর্ণ এলাকা না হওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডান সরকার। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের তেলের ট্যাঙ্কারগুলির ওপর তাদের এই সামরিক আক্রমণ লাগাতার অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকেও চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে কুয়েত এবং বাহরাইনের বন্দরে ভিড়ে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলি অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সেগুলির ওপর ভয়াবহ হামলা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এই লাগাতার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল সরবরাহকারী রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথ দিয়েই পৃথিবীর মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর ওপরে আবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় একাধিক তেলের কেন্দ্রে জোরালো হামলা চালা দেওয়ায় সেখানকার উৎপাদন কাজ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আগামী দিনে কোন ভয়াবহ স্তরে গিয়ে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।