বৈধ কাগজ ছাড়াই রাতের আঁধারে গরুর চালান! মানিকপাড়া বিট হাউসের হটস্পট অভিযানে এল বিরাট সাফল্য!

রাতের অন্ধকারে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে এক বিরাট বড় পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল মানিকপাড়া বিট হাউসের পুলিশ। ওড়িশা থেকে জাতীয় সড়ক ধরে কলকাতার দিকে অত্যন্ত সুকৌশলে গবাদি পশু পাচার করার সময় দুটি সন্দেহভাজন ট্রাককে আটক করে পুলিশ উদ্ধার করেছে মোট ৪৫টি গরু। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ দু’জন কুখ্যাত ট্রাক চালককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। ঝাড়গ্রাম সংলগ্ন জাতীয় সড়কে পুলিশের এই তৎপরতা ও ধাওয়া করে গাড়ি আটকের ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত রাতে গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে আগে থেকেই চরম সতর্কাবস্থায় ছিল মানিকপাড়া বিট হাউসের বিশেষ পুলিশ দল। সেই সূত্র ধরেই ঝাড়গ্রামের ৪৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গভীর রাতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। ঠিক রাত দুটোর সময় বলিভাসা টোল প্লাজা এলাকায় পৌঁছানোর পর দুটি মালবাহী ট্রাককে সন্দেহজনকভাবে এগিয়ে আসতে দেখে পুলিশ সেগুলিকে থামার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুলিশের দাবি, সংকেত পাওয়ার পরেও চালকরা গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি দেওয়ার পরিবর্তে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার এই অপচেষ্টায় সন্দেহ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
এরপরই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে পুলিশের পেট্রোলিং ভ্যান ট্রাক দুটির পিছু ধাওয়া করে। দীর্ঘক্ষণ সিনেমা স্টাইলে ধাওয়া করার পর অবশেষে সংবেদনশীল গুপ্তমণি এলিফ্যান্ট করিডর এলাকায় গিয়ে দুটি ট্রাকের পথ আটকে সেগুলিকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপরেই শুরু হয় পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি অভিযান। ট্রাক দুটির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় একে একে ৪৫টি অসহায় গবাদি পশু। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চালকরা গবাদি পশু পরিবহণ সংক্রান্ত কোনো ধরনের বৈধ আইনি কাগজপত্র বা সরকারি অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই অবৈধ পশুপাচারের অভিযোগে মহম্মদ রিয়াজউদ্দিন (৪৬) এবং সেরাজ শেখ (৩২) নামের দুই ট্রাক চালককে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়। শুধু চালকদের গ্রেফতার করাই নয়, পশুপাচারের এই নিরাপদ রুটের পিছনে আরও কোনো শক্তিশালী সংগঠিত চক্র বা বড় মাথা যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে তদন্তকারীরা। গবাদি পশুগুলি ঠিক কোন উৎসস্থল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কলকাতার ঠিক কোন গন্তব্যে সেগুলি পাচার করা হচ্ছিল, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। এর আগেও এই একই রুট ব্যবহার করে একইভাবে পাচার হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।