উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পাশদের জন্য বাম্পার সুযোগ! কবে থেকে শুরু হচ্ছে নতুন প্রকল্পের আবেদন?

অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ চর্চা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে নতুন একটি প্রকল্প নিয়ে তীব্র কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের ঘোষিত মেগা প্রকল্প ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ কবে থেকে চালু হতে চলেছে, এর আওতায় কারা উপকৃত হবেন এবং আবেদন করার জন্য ঠিক কী কী গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্রয়োজন—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক উত্তীর্ণ রাজ্যের বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সুরক্ষার দিশা দেখাতে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের আগের সরকারের আমলে যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি কাঠামো চালু ছিল। ঠিক সেই আদলেই বেকার যুবকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও সুরক্ষার লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন সরকারের তরফে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, রাজ্যের যে সমস্ত যুবক-যুবতী উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন, তাঁরা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে বেকার ভাতা পেতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তার বেশি, তাঁরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য রাখা হয়নি; অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীর জন্যই আবেদন করার সমান সুযোগ থাকবে।

এই মুহূর্তে রাজ্যবাসীর মনে সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া ঠিক কবে থেকে শুরু হতে পারে তা নিয়ে। প্রাথমিক ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিটি আবেদনকারীর নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হবে। এই ভেরিফিকেশন পর্ব সফলভাবে শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। তবে আবেদন শুরুর সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ, ভাতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত সময়সূচি এবং অফিশিয়াল পোর্টাল সম্পর্কে সরকারের তরফ থেকে কোনো চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত থাকা ঠিক হবে না।

এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলি প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রস্তাবিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন করার সময় প্রার্থীর সাম্প্রতিককালের রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন হবে। এর পাশাপাশি পরিচয় ও ঠিকানা প্রমাণে প্রধানত নির্দিষ্ট নথি এবং আধার-লিঙ্কড সক্রিয় মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ভোটার কার্ড, বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্ম শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা মার্কশিট থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক কিংবা অন্যান্য উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিসমানের সার্টিফিকেট বা মার্কশিটও আবশ্যিক নথির তালিকায় থাকতে পারে। আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য আবেদনকারীর নিজ নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ বা পাসবুকের কপি এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটিও এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে।

সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি সরকারি অনলাইন পোর্টাল বা ওয়েবসাইট চালু করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সেই ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমেই ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এর পাশাপাশি যাঁদের অনলাইন ব্যবহারে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য অফলাইনেও আবেদন করার সুব্যবস্থা রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটি অফিস, কর্পোরেশন অফিস, এসডিও অফিস কিংবা বিডিও অফিসে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

প্রস্তাবিত নিয়ম নীতি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দারা এবং রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরাই একমাত্র এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার স্তর ভেদে প্রার্থীরা প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই নতুন উদ্যোগ রাজ্যের বেকারত্ব সমস্যা দূর করতে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।