কলকাতায় এবার ‘সনাতন মেয়র’! ইন্দোর মডেলে তিলোত্তমাকে সাজাতে সুকান্তর বিরাট ধামাকা ঘোষণা

কলকাতা পুরসভা নির্বাচন ২০২৬-কে পাখির চোখ করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। পুরভোটে কলকাতার পুর চেয়ার দখলের লড়াইয়ে বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব সুকান্ত মজুমদার। শুধু বার্তা দেওয়াই নয়, কালীঘাটের জয় হিন্দ ভবনে বুথ ও ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভোটের সলতে পাকানোর কাজ শুরু করে দিলেন তিনি।

ইন্দোর মডেলে সাজবে তিলোত্তমা: পরিশচ্ছন্নতা ও সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনার দিক থেকে দেশে একাধিকবার শীর্ষস্থান অধিকার করেছে মধ্যপ্রদেশের ‘ইন্দোর’ শহর। সুকান্ত মজুমদার জানান, ভারতের সেরা পরিচ্ছন্ন শহর ইন্দোরের আদলেই এবার তিলোত্তমা কলকাতাকে নতুন করে সাজাতে চায় গেরুয়া শিবির। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই রূপরেখা ও ম্যানিফেস্টো তৈরি করা হচ্ছে।

মমতা-ফিরহাদের শক্ত ঘাঁটিতে নজর: এদিনের বৈঠকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল ১৩৬ নম্বর ওয়ার্ড (অতীতের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড, যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এলাকা) এবং ১৩৮ নম্বর ওয়ার্ড (অতীতের ৮২ নম্বর ওয়ার্ড, যা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের এলাকা)-এর ওপর। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারা।

চোখের জলের বদলা গণতন্ত্রের পথে: বিজেপি সূত্রে খবর, অতীতে মমতার ওয়ার্ডে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এসে শাসকদলের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বিজেপি কর্মীদের, যার ফলে ক্ষোভ ও চোখের জল নিয়ে ফিরতে হয়েছিল তৎকালীন নেতৃত্বকে। সেই পুরানো তিক্ততার স্মৃতি স্মরণ করে সুকান্ত মজুমদারদের বার্তা, হিংসার পথে নয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে শাসকদলকে পরাজিত করে এর জবাব দিতে চায় পদ্ম শিবির।

সব মিলিয়ে, ‘সনাতন মেয়র’-এর বার্তা এবং ইন্দোর মডেলকে সামনে রেখে কলকাতা পুরভোটে বিজেপি যে শাসকদলের জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।