এসএফআই-এবিভিপি সংঘাতের জেরে রণক্ষেত্র জলপাইগুড়ি! পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

সোমবার রাতে রণক্ষেত্রের রূপ নিল জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোড। এবিভিপি সমর্থককে মারধরের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। জলপাইগুড়ি আইন কলেজে এবিভিপি এবং এসএফআই-এর মধ্যে গোলমালের জেরে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। এবিভিপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে এসএফিপি-এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হন বিজেপি ও এবিভিপি কর্মীরা। তাঁরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরেই রাতে সিপিএমের জেলা পার্টি অফিসে হামলা এবং আগুন লাগানোর মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, সোমবার জলপাইগুড়ি আইন কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এবিভিপি কর্মীদের উপর এসএফআই হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আহত এবিভিপি কর্মীরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিজেপি ও এবিভিপি কর্মীরা। তাঁরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হন। রাতের দিকে জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডে সিপিএমের জেলা পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। সিপিএমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একদল লোক পেট্রল নিয়ে এসে পার্টি অফিসে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। পার্টি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট ছোড়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চলে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সিপিএম ও বিজেপি কর্মীরা সরাসরি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি মৌমন চক্রবর্তী বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিপিএম নেতা পীযূষ মিশ্র এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, সারা দেশে যে অরাজকতা চলছে, আজ জলপাইগুড়িতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটল। আমাদের পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ইট ছুড়ে অফিসের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে। গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরার এই অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
যদিও সিপিএমের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি পলিন ঘোষ বলেন, আমাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আমরা বারবার প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিলাম যাতে আমাদের পার্টি অফিসের সামনে কোনও অশান্তি না হয়। কিন্তু এবিভিপি-র দুই ছাত্রকে এসএফআই নির্মমভাবে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। যারা দোষী, পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আমরা কিছুতেই হতে দেব না। আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, এবিভিপির জলপাইগুড়ির নগর সভাপতি বিনায়ক দাস জানান, আমাদের কার্যকর্তাদের উপর এসএফআই বর্বরোচিত আক্রমণ চালিয়েছে। তাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা কোনও রকম মারধরের সঙ্গে যুক্ত নই। আমরা আইনের পথ বেছে নিয়েছি এবং পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।
কোতোয়ালি থানার আইসি মৌমন চক্রবর্তী জানান, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলা এই ঝামেলা চরমে উঠেছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার জেরে জলপাইগুড়ি জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।