তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দিল্লির পিজি! পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে এবার সোজা কেন্দ্রকে বিরাট বার্তা সোনু সুদের!

দিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিপর্যয় ফের একবার দেশের ছাত্রসমাজের আবাসন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। সম্প্রতি দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বা ডিইউ-এর সাউথ ক্যাম্পাসের ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি বহুতল পিজি (Paying Guest) ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। রবিবারের ছুটির দুপুরে তাসের ঘরের মতো এই ভবনটি ধসে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন একাধিক পড়ুয়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে পড়তে আসা তরুণ-ছাত্রদের ওপর নেমে আসা এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা তথা জনদরদী তারকা সোনু সুদ। ছাত্রছাত্রীদের স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দাবিতে মঙ্গলবার তিনি সোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জোরালো ও দূরদর্শী কিছু প্রস্তাব পেশ করেছেন।

দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা ও নিজেদের কেরিয়ারের স্বপ্নপূরণ করতে রাজধানী দিল্লিতে আসেন। এই বাস্তব চিত্র তুলে ধরে নিজের অফিসিয়াল এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) হ্যান্ডেলে সোনু সুদ লিখেছেন, “প্রতি বছর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী অন্য শহর থেকে এসে রাজধানীতে বসবাস শুরু করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই তাদের বসবাসের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ দিতে পেরেছি?” তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও জানান, দিল্লিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ শিক্ষার্থী নথিভুক্ত রয়েছে, অথচ সেখানে অফিশিয়াল হস্টেলে থাকার সুযোগ পান বড়জোর ৩০ হাজার পড়ুয়া। অর্থাৎ, পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন হস্টেলের সুবিধা পান। বাকি বিশাল সংখ্যক পড়ুয়াদের বাধ্য হয়েই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর বেসরকারি পিজি বা মেসে থাকতে হয়।

সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি এর একটি স্থায়ী ও কার্যকারী সমাধানও বাতলে দিয়েছেন সোনু সুদ। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আশপাশে থাকা অব্যবহৃত বা ফাঁকা সরকারি জমি চিহ্নিত করে সেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ ছাত্রাবাস বা হস্টেল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও তাদের নিজেদের ক্যাম্পাসের ভেতরে পড়ুয়াদের আবাসন সংকট মেটাতে অতিরিক্ত ভবন নির্মাণের বিশেষ অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সোনুর দাবি, এই ধরনের যুগোপযোগী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে, অন্যদিকে দেশের লক্ষাধিক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের নিয়ে মানসিক শান্তি ফিরে পাবেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, তেমনই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে বহু অমূল্য তরুণ প্রাণের রক্ষা। তাঁর মতে, নীতিগত বা পলিসিতে ছোট্ট একটি ইতিবাচক পরিবর্তনই কোনো পড়ুয়ার সবচেয়ে বড় স্বপ্নকে রক্ষা করতে পারে।

এদিকে, সত্য নিকেতনের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার পরই দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগায় দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হওয়া এই উদ্ধারকাজে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রত্যেককে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে আশেপাশের বিপজ্জনক ভবনগুলিও দ্রুত খালি করা হয়েছে।