বেনামি অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক লেনদেন? ইডির জালে শাসকদলের হেভিওয়েট সাংসদ নাদিমুল হক!

ফের সকাল হতেই শহর কলকাতায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সরাসরি নজরে পড়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। সোমবার সকাল থেকেই দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ততম পার্ক সার্কাস এলাকায় অবস্থিত তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দপ্তরে হানা দেন ইডির একদল গোয়েন্দা আধিকারিক। কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে ঘেরা এই দপ্তরে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হয় বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে।

শুধু পার্ক সার্কাস এলাকাই নয়, এর পাশাপাশি কলকাতার আরও একাধিক নামী জায়গাতেও একই সময়ে সমান্তরালভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সকালের দিকে হঠাৎ করে এই একাধিক জায়গায় কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের এই অতর্কিত উপস্থিতি ও তৎপরতা ঘিরে স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সূত্র মারफत জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সাংসদের অফিসের বিভিন্ন কাগজাতি, বিগত দিনের আর্থিক লেনদেনের হিসেবনিকেশ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মূলত কথিত বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্যের সূত্র ধরেই এই ঝটিকা তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী গোয়েন্দাদের প্রাথমিক নজরে রয়েছে হিসেব বহির্ভূত একাধিক সন্দেহজনক ডিপোজিট বা জমার খতিয়ান। এর মধ্যে কয়েকটি আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ভুয়ো বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে কি না, সেই গুরুতর দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থের আসল উৎস কোথায় এবং সেই বিশাল অংকের অর্থ পরবর্তীতে কোথায় ও কীভাবে বিভিন্ন হাত ঘুরে স্থানান্তরিত হয়েছে, তা বর্তমানে তাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এছাড়াও নামে ও বেনামে একাধিক জাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করা হয়েছিল কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দারা। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র রয়েছে কি না কিংবা একাধিক ব্যক্তি ও ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ঘোরানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। এই সাঁড়াশি অভিযানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।