বিচার নিয়ে এ কোন সত্যি ফাঁস করলেন জীতু? রাহুলের শেষ ছবি মুক্তির আগে টলিপাড়ায় তুঙ্গে বিতর্ক!

শীঘ্রই বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল সাই প্রকাশ লাহিড়ি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘এরাও মানুষ’। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ছবিটি সেপ্টেম্বর মাসেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, তবে সম্প্রতি অভিনেতা জীতু কামাল নিজেই জানিয়েছেন যে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে কিছুটা সময় লাগার কারণে ছবির মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এর মাঝেই ‘আজকাল ডট ইন’-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই ছবির অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ—প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। প্রয়াত সহ-অভিনেতাকে স্মরণ করে ও তাঁর কাজকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভিনেতা জীতু কামাল।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর অভিনেতা জীতু কামাল নিজের মতো করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বারংবার প্রশ্ন তুলেছেন যে এই ঘটনার প্রকৃত বিচার কবে আসবে। এদিন রাহুলের মৃত্যুর বিচার প্রসঙ্গে আজকাল ডট ইনকে জীতু স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ওঁর মৃত্যুর তদন্তের জন্য যাঁরা অনুরোধ করেছেন এবং আইনি পথে হেঁটেছেন, আসল উত্তর তাঁরাই দিতে পারবেন। তাঁরা এফআইআর করেছেন। এবার সেই এফআইআর কি নিছকই লোক দেখানোর জন্য, নাকি সত্যিই বিচার পাওয়ার তাগিদে—সেটা কেবল তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেখানে ছিলাম, ঠিক সেই তিমিরেই দাঁড়িয়ে আছি। আমার কাছে নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) বা কাজের নিয়মকানুন অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু কাজ হবে হবে করেও তার মাঝে একাধিক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়ে গেল। নতুন সরকার এল, উত্তম কুমারের শতবর্ষ উদযাপিত হল, রাজভবনে খাওয়াদাওয়া চলল। কথাতেই আছে, আমাদের বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই সমস্ত উৎসব লেগেই থাকবে। তবে এতকিছুর পরেও আমি এখনও যথেষ্ট আশাবাদী যে নিশ্চয়ই একদিন সুবিচার পাবে।”

জীতু আরও যোগ করে বলেন, “রাহুল দার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময় বা কথাবার্তা—সেসব সুন্দর স্মৃতি হিসেবে চিরকাল থেকে যাবে। তবে আমি আগেও স্পষ্ট করে বলেছি, আজও বলছি, কোনো মানুষকে শিখণ্ডী বানিয়ে বা তাঁর মর্মান্তিক চলে যাওয়াকে হাতিয়ার করে কোনো ছবির প্রচার আমি অতীতেও করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। কোনো ছবির কাজের সময় যদি আমারও এমন দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটে, তবে আমি আশা করব কোনো প্রযোজক যেন আমাকে নিয়েও এমন সস্তা প্রচার না করেন। শেষ ছবি বলে কিছু হয় না, কারো ছবি শেষ হতে পারে আবার অন্যের ছবিও শেষ হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিল্প ও সৃষ্টি সবসময় অমর হয়ে থেকে যায়। সিনেমা হলের ভেতরে বসে নাটকীয়ভাবে কান্নাকাটি করা… কান্নার জন্য আলাদা ঘর রয়েছে, তাঁর মা আছেন। ভেঙে পড়ো, শোক করো, কিন্তু তাঁকে শিখণ্ডী বানিয়ে ছবির প্রচারের হাতিয়ার কোরো না। এতে হয়তো দুটো অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি হতে পারে, কিন্তু তাঁর অভিশাপ লাগবে। রাহুল তো আমাদের মধ্যেই রয়েছে, তাকে আমি চিরকাল বাঁচিয়ে রাখব তার কাজের মাধ্যমে। সে যদি আজ বেঁচে থাকত, আমি কি তবে কেঁদে কেঁদে তার ছবি দেখতে পারতাম? কান্না তো আমারও আসে। অতীতে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দেখেও আমি কেঁদেছিলাম, অথচ তখন তো রাহুল দা দিব্যি বেঁচে ছিল! কিন্তু এখন পর্দায় রাহুল দার করা কোনো একটা আনন্দের দৃশ্য দেখে যদি মানুষ কাঁদতে শুরু করে, তবে কি আমরা ধরে নেব সে তার অভিনয় ভুল করেছিল?”

উল্লেখ্য, সাই প্রকাশ লাহিড়ীর পরিচালনায় তৈরি ‘এরাও মানুষ’ ছবিটিতে আবারও একসঙ্গে জুটি বেঁধে বড় পর্দায় ফিরছেন জীতু কামাল এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এই ছবিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সত্যম ভট্টাচার্য, শান্তিলাল মুখার্জি, বিশ্বনাথ বসু, চন্দন সেন এবং কনীনিকা ব্যানার্জির মতো প্রতিভাবান শিল্পীরা। মূলত তিন বন্ধুর জীবনের নানা ওঠানামা ও সম্পর্কের সমীকরণকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে এই ছবির সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য।