হিমালয়ের বুকে চরম রহস্য! ৫,৫০০ জন নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও কেন মাত্র ৯০০ জনের খোঁজে জান লড়ছে নেপাল?

নেপালে বিধ্বংসী বন্যা ও ভূমিধসের তেরো দিন কেটে গেলেও এখনও সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধারকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সম্পূর্ণ ফোকাস করছে প্রশাসন। হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে আটকা পড়া প্রায় ৯০০ জন কর্মীর মধ্যে অন্তত ১২১ জনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা। আর ঠিক এই কারণেই গোটা দেশের নজর এখন সুড়ঙ্গের ভেতরের তল্লাশি অভিযানের দিকে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে এক প্রলয়ঙ্করী হিমবাহ ধসের জেরে কাদা ও পাথরের স্রোতে ভেসে যায় একের পর এক জনপদ। এই বিপর্যয়ে উভয় অঞ্চলে অন্তত ১,৩৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫,৫০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় পর্যটকও রয়েছেন, যারা কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলে। তবে সম্প্রতি সুড়ঙ্গ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিক উপায়ে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করায় উদ্ধারকর্মীদের আশা বহুলাংশে বেড়ে গেছে। শনিবার এক চীনা নাগরিক এবং শুক্রবার দুই জলবিদ্যুৎ কর্মীকে টানেল থেকে উদ্ধার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুড়ঙ্গের ভেতরে বায়ু পকেট ও নির্দিষ্ট কক্ষ বা বসার জায়গা থাকার কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়েছেন। আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে বিশেষ সরঞ্জাম ও কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়ে নেপাল সরকার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, বেইলি ব্রিজ এবং বিশেষ উদ্ধার পোশাকের আবেদন জানিয়েছে। একদিকে নিখোঁজদের সঠিক তথ্য পেতে চীনের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ১৩তম ও শেষ শোক দিবস পালনের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে হিমালয়ের দেশটি।