ভারত কি বিশ্ব অর্থনীতিকে চমকে দেবে? ২০২৭ সালেও ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি বৃদ্ধির বিরাট পূর্বাভাস!

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের (এসবিআইএফএম) সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের উপরেই থাকতে পারে। আগামী ত্রৈমাসিকগুলোতে শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং জোরালো রপ্তানি বৃদ্ধির হাত ধরেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৮ শতাংশ। এই শক্তিশালী অবস্থানের পিছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল বিনিয়োগ এবং রপ্তানি। প্রকৃত মোট স্থির মূলধন গঠন এবং রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। আগামী দিনে কর্পোরেট বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিএসই ৫০০ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মূলধনী ব্যয় এই অর্থবর্ষে প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ বিনিয়োগই আসতে চলেছে একাকী বিদ্যুৎ খাত থেকে। এরপরই রয়েছে লৌহ, ইস্পাত এবং মূলধনী পণ্য খাত।

তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চিন তাদের তেলের মজুদ বাড়ানো এবং ইউরোপ-আমেরিকায় জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের সমীকরণের কারণে বিশ্বজুড়ে পণ্যের দামের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতির এই আশঙ্কার জেরে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) আগামী দিনে সুদের হার প্রায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

অভ্যন্তরীণ নীতিগত সহায়তার গতি কিছুটা মন্থর হলেও বিনিয়োগ ও বিশ্ব বাণিজ্যের উপর নির্ভর করে ভারতীয় অর্থনীতি যে শ্লথগতি কাটিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছে, এই প্রতিবেদন তারই জোরালো সপক্ষে বার্তা দিচ্ছে। নতুন কোনো বড় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি না হলে ভারতের এই দুরন্ত গতি ২০২৭ সালেও বজায় থাকবে বলেই প্রবল আশাবাদী আর্থিক মহল।