আমেরিকার বিরুদ্ধে ব্রিকসকে হাতিয়ার করতে মরিয়া ইরান! আসন্ন দিল্লি সম্মেলন ঘিরে তুঙ্গে বিশ্ব রাজনীতি!

আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে আমেরিকার উপর কূটনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তাদের প্রধান লক্ষ্য, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি যেন পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক আগ্রাসন ও নীতির তীব্র বিরোধিতা করে এবং সম্মেলনের শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে তার স্পষ্ট উল্লেখ থাকে। তবে এই কূটনৈতিক লড়াই যে অতটা সহজ হবে না, তা স্পষ্ট আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের কাছে।

ব্রিকসকে হাতিয়ার করার কৌশল

দিল্লিতে আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বসতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলনের আসর। এই মেগা ইভেন্টে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিশকিয়ানসহ বিশ্বমানের বহু নেতাই অংশ নেবেন। তার আগে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়তোল্লা গোলাম মহসেনি ইজাই সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধিদের সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রতিটি সদস্য দেশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন কেন আমেরিকার নিন্দা করা প্রয়োজন।

তাঁর মতে, বিশ্ব ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্রিকসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এবং কোনো শক্তিকেই আইনের ঊর্ধ্বে ওঠার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ইরানের উপর মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী ও বেআইনি বলে দাবি করে তেহরান। ব্রিকসের সমর্থন আদায় করতে পারলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের বড় জয় হবে বলেই মনে করছে ইরানের প্রশাসন।

সদস্য দেশগুলির মধ্যে অনৈক্য ও চ্যালেঞ্জ

তবে এই প্রস্তাব পাস করানো নিয়ে ব্রিকসের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। বিশেষ করে সৌদি আরব এবং আরব আমিরশাহির মতো প্রভাবশালী দেশগুলির সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কারণে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা করেছে আরব দেশগুলি। এমনকি আরব আমিরশাহি ইরানের সঙ্গে সমস্ত আর্থিক বোঝাপড়াও বাতিল করেছে। ফলে যৌথ বিবৃতিতে আমেরিকার সরাসরি সমালোচনার বিষয়টি সৌদি আরব বা আমিরশাহি কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে রয়েছে গভীর সংশয়।

এর আগে মে মাসে বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে কোনো যৌথ প্রস্তাব পাস হয়নি। তবে ভারতের মধ্যস্থতায় এসসিও (SCO) সম্মেলনে ইরানের পক্ষে কিছুটা ইতিবাচক সুর শোনা গেলেও, ব্রিকসের মঞ্চে আমেরিকার বিরুদ্ধে সর্বসম্মত বয়ান তৈরি করা তেহরানের জন্য এক বিরাট কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।