“সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখেই ইতিহাস তৈরি হবে!” প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে রাজ্যজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালনের মেগা সিদ্ধান্ত

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নয়, বরং আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের বিশেষ দিনেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র টাকা পাঠানো হবে। সোমবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান থেকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে গত মাসে ঘোষণা করা হয়েছিল যে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যাবে, তবে বিশেষ দিনটির কথা মাথায় রেখে সম্পূর্ণ পরিকল্পনায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ দিনটিকে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ হিসেবে সাড়ম্বরে পালন করা হবে। মূলত সেই ঐতিহাসিক দিনেই রাজ্যের নারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা জমা হবে। গত আগস্ট মাসেই রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা এই নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সফলভাবে পেয়েছেন। এই জনপ্রিয় যোজনার আওতায় মূলত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি নারীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে রাজ্য সরকার।
তবে এদিন বিশেষভাবে সক্ষম বা দিব্যাঙ্গ মহিলাদের জন্য একজোড়া দুর্দান্ত সুখবর শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এই বিশেষ ক্যাটাগরির নারীরা এবার থেকে একইসঙ্গে দুটি সরকারি ভাতার সুবিধা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “আমি দিব্যাঙ্গজনদের ক্ষেত্রে বলছি, এমন ১ লক্ষ ২৪ হাজার বোন বা দিদি রয়েছেন, যাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাঁদের আমরা দুটো ভাতাই দিচ্ছি। তাঁরা ১,৫০০ টাকা সাধারণ ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও পাবেন। অর্থাৎ, তাঁরা প্রতি মাসে সম্মিলিতভাবে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা করে পাবেন।”
সোমবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ধিত হারে বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার শুভ সূচনা করা হয়। সেই মঞ্চ থেকেই বর্তমান সরকারকে সাধারণ মানুষের স্বার্থে নিবেদিতপ্রাণ ‘জনদরদি’ বা প্রো-পিপল সরকার হিসেবে অভিহিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী ইশতেহার বা সংকল্প পত্রে ভাতা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, “এই সরকার জনদরদি ও প্রো-পিপল সরকার। আমরা সংকল্প পত্রে বলেছিলাম ভাতা ডাবল করে দেব। কিন্তু তৎকালীন খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে এখনই তা পুরোপুরি দ্বিগুণ করা সম্ভব হয়নি, তার জন্য আমি একটু সময় চেয়ে নিচ্ছি।”
তবে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ালে সেই সমস্ত প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলে কড়া আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, “এই অর্থবর্ষে আমরা ৫০০ টাকা বাড়ালাম। ভবিষ্যতে এই রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার যদি প্রকৃত শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে পারি, তবে সংকল্প পত্রের বাকি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে পরবর্তী অর্থবর্ষে আমরা নিশ্চয়ই বিবেচনা করব।” আসন্ন উৎসবের মরশুমের আবহে রাজ্যবাসীকে গণেশ চতুর্থী, বিশ্বকর্মা পুজো এবং মহালয়া তথা দেবীপক্ষ শুরুর আগাম আন্তরিক শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে পুজোর মুখে এই মেগা আর্থিক ঘোষণায় রাজ্যবাসীর মুখে যে চওড়া হাসি ফুটবে, তা বলাই বাহুল্য।