একলাফে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে সোয়া চার হাজার টাকা! দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যবাসীর জন্য ঐতিহাসিক উপহার

আসন্ন নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শেষ দিকে রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভা বা ওয়ার্ড স্তরে ফের নতুন করে দু’দিনের বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সরকারি অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন নবান্ন থেকে সরাসরি রাজ্যের বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম বা প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ভাতার টাকা সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, এই তিনটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় মোট ৮৩ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রকৃত প্রাপকের হাতে ভাতার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সঠিকভাবে পরিচালনা করতে রাজ্য সরকারের রাজকোষ থেকে বার্ষিক প্রায় ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে সমস্ত মহিলা বর্তমানে সাধারণ বিধবা ভাতা সংগ্রহ করছেন, তাঁরা চাইলে সেই ভাতা ত্যাগ করে আরও বেশি আর্থিক সুবিধাযুক্ত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি তাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হন, তবে মাসিক ১,৫০০ টাকার পরিবর্তে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন।
পাশাপাশি, বিশেষভাবে সক্ষম মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বন নিশ্চিত করতে আরও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিশেষভাবে সক্ষম মহিলারা কেবল সাধারণ প্রতিবন্ধী ভাতাই পাবেন না, বরং তাঁরা একই সঙ্গে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র ভাতাও একসঙ্গে তুলতে পারবেন। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার বিশেষভাবে সক্ষম মহিলা প্রতি মাসে সম্মিলিতভাবে মোট ৪,৫০০ টাকা করে বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্য পাবেন।
এদিকে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিগত আমলের জালিয়াতি রুখতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করেছে বর্তমান প্রশাসন। ভাতার ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি করা সমস্ত অপেক্ষমান তালিকা বা ‘ওয়েটিং লিস্ট’ এক কলমের টানে সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে যাঁরা নতুন করে আবেদন করেছেন, প্রশাসনিক যাচাইকরণের পর তাঁদেরই সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এছাড়াও, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ উদযাপনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।